বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক – গাজীপুর
বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক

বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক – গাজীপুর

বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক (Bangabandhu Safari Park) ঢাকা থেকে মাত্র ৪০ কিলোমিটার দূরে গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলার মাওনা ইউনিয়নে অবস্থিত। ৩৬৯০ একর জুড়ে এটি গড়ে উঠেছে। বঙ্গবন্ধু সাফারী পার্ক মূলত থাইল্যান্ডের সাফারী ওয়ার্ল্ড এবং ইন্দোনেশিয়ার বালি সাফারী পার্কের আদলে তৈরী করা হয়েছে।

এই পার্কের প্রধান আকর্ষণ হলো কোর সাফারি পার্কের অংশটুকু। এখানে আপনি দেখতে পাবেন উন্মুক্ত বাঘ হরিণ এবং অন্যান্য প্রাণী হাঁটাহাঁটি করছে আর তার মধ্য দিয়ে আপনি একটি বাস এ করে সব ঘুরে দেখছেন। হয়তোবা কখনো কখনো এই বন্যপ্রাণী গুলো আপনার বাসের সামনে এসে আপনার রাস্তা আটকে দাঁড়াবে। এরকম রোমাঞ্চকর দৃশ্য উপভোগ করতে আর দেরি না করে আজই চলে আসুন বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে।

বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক টি মূলত পাঁচটি ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে: কোর সাফারি পার্ক, বঙ্গবন্ধু স্কয়ার, সাফারি কিংডম, বায়োডাইভারসিটি পার্ক, এক্সটেনসিভ এশিয়ান সাফারি পার্ক।

কোর সাফারি পার্ক

সাফারি পার্কের মূল আকর্ষণ মূলত এই কোর  সাফারি পার্ক। প্রায় ১৩৩১ একর জুড়ে গঠিত এই এলাকাটি। এই অঞ্চলে বন্যপ্রাণী গুলো উন্মুক্ত থাকায় কেউ এখানে গাড়ি ছাড়া প্রবেশ করতে পারে না। এখানে প্রবেশ করার জন্য দুইটি মিনিবাস রয়েছে যাতে করে পর্যটকরা ভিতরে প্রবেশ করে সবকিছু উপভোগ করতে পারে। তবে এইখানে প্রবেশ করার জন্য আপনাকে আলাদা করে নির্দিষ্ট ফি দিতে হবে। এখানে আপনি দেখতে পাবেন বাঘ, ভাল্লুক, সিংহ, চিতাবাঘ, হরিণ, চিত্রা হরিণ, গয়াল, হাতি, প্যারা হরিণ এছাড়াও আরও অনেক বন্যপ্রাণী দেখবেন খোলা পরিবেশে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

 বঙ্গবন্ধু স্কয়ার

এই অংশটুকু মূলত তৈরি করা হয়েছে পার্কিং এরিয়া, অফিস ভবন, ডিসপ্লে ম্যাপ, পার্কিং অফিস, তথ্য কেন্দ্র, বিশ্রামাগার, ইকো রিসোর্ট ইত্যাদি। এই অংশটুকু প্রায় ৩৮ একর জায়গা নিয়ে তৈরি করা হয়েছে।

 সাফারি কিংডম

৫৭৫ একর জায়গা নিয়ে সাফারি কিংডম এলাকাটি তৈরি করা হয়েছে। সাফারি কিংডম এলাকাটিতে পর্যটকরা পায়ে হেঁটে ঘুরে বেড়াতে পারবেন। এটি তৈরি করার মূল উদ্দেশ্য হলো বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ বন্যপ্রাণী খেলাধুলা প্রদর্শনের মাধ্যমে পর্যটকদের আনন্দ প্রদান করা। সাফারি কিংডম এর একদম শুরুতে রয়েছে ম্যাকাও ল্যান্ড, এখানে আফ্রিকা থেকে আনা প্রায় ৩৪ প্রজাতির পাখি রয়েছে। এর পাশেই রয়েছে মেরিন অ্যাকুরিয়াম। এখানে প্রায় ২০ প্রজাতির মাছ রয়েছে।

বায়োডাইভারসিটি পার্ক

বায়োডাইভারসিটি পার্ক তৈরি করার মূল উদ্দেশ্য হলো বিলুপ্ত দুর্লভ প্রজাতির উদ্ভিদ সংরক্ষন করা। এটি প্রায় ৯৬৫ একর এলাকা নিয়ে তৈরি করা হয়েছে। এখানে গেলে আপনি দেখতে পারবেন নানা প্রজাতির বিলুপ্ত গাছপালা। এ পার্কটিকে জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যান ও বলদা গার্ডেনের র‌্যাপলিকা হিসাবে স্থাপন করা হয়েসে।

 এক্সটেনসিভ এশিয়ান সাফারি পার্ক

এক্সটেনসিভ এশিয়ান সাফারি পার্ক  তৈরি করা হয়েছে ৮২৪ একর এলাকা জুড়ে। এই পার্কে এশিয়ান সকল তৃণভোজী ও মাংসাশী প্রাণী পাখি সরীসৃপ ও উভচর প্রাণী নিয়ে সাজানো হয়েছে। বন্য প্রাণীর আবাসস্থল হিসেবে উপযোগী চারণভূমি ও  বাগান হিসেবে তৈরি করা হয়েছে।

সাফারি পার্কের প্রবেশ মূল্য অন্যান্য খরচ

সাফারি পার্ক প্রবেশ এর টিকেটের মূল্য জনপ্রতি ৫০ টাকা করে এবং ১৮ বছরের নিচে সকল ছেলেমেয়েদের জন্য জনপ্রতি 10 টাকা করে নেওয়া হয়। আর সাধারন ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য এবং শিক্ষা সফরে আসা ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য জনপ্রতি টিকেট মূল্য ১০ টাকা করে রাখা হয়। বিদেশি দর্শনার্থীদের জন্য জনপ্রতি টিকেট মূল্য ৫ ডলার বা ৫ ডলার সমমানের বাংলাদেশি টাকা নেওয়া হয়।

এছাড়াও আরেকটি স্পেশাল অফার রয়েছে যেটি শিক্ষা সফরে আসা ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য প্রযোজ্য। যদি শিক্ষা সফরে আসা ছাত্র-ছাত্রীদের গ্রুপ ৪০ থেকে ১০০ জন হয় তবে তারা ৪০০ টাকা দিয়ে প্রবেশ করতে হবে। আর যদি গ্রুপ 100 জনের বেশি হয় তাহলে প্রবেশ করার জন্য ৮০০ টাকা দিতে হবে।

কোর সাফারি পার্কের প্রবেশ মূল্য: কোন সাফারি পার্কে প্রবেশ করার জন্য আপনাকে জন প্রতি আলাদা করে ১০০ টাকা প্রদান করতে হবে। ১৮ বছরের কম বয়সী ছাত্রছাত্রীদের জন্য জনপ্রতি ৫০ টাকা করে নেওয়া হয়।

পার্কের অন্যান্য স্পটগুলো গুরতে আপনাকে আলাদা আলাদাভাবে টিকেট কাটতে হবে। মোটামুটি সবগুলো স্পোর্টস ঘুরতে আপনার ২০০ থেকে ৩০০ টাকা খরচ হবে। তবে আপনি চাইলে কয়েকটি স্পোর্টস একসাথে কেনার প্যাকেজ কিনতে পারেন। এছাড়াও এখানে পানিতে বোটে ৩০ মিনিট ঘুরার জন্য আপনাকে ২০০ টাকা দিতে হবে।

গাড়ি পার্কিং ভাড়া: প্রতিটি বাসের জন্য পার্কিং ভাড়া নেওয়া হয় ২০০ টাকা করে এবং মাইক্রোবাস ও মিনিবাস পার্কিং ভাড়া ১০০ টাকা। এছাড়াও প্রাইভেট কার, সিএনজি, অটোরিকশা পার্কিং ভাড়া ৬০ টাকা করে।

পরিদর্শনের সময়

বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক মঙ্গলবার ছাড়া সপ্তাহের ছয় দিন খোলা থাকে সকাল ৯ টা থেকে বিকাল ৬ টা পর্যন্ত। আপনি যদি পুরো পার্কটি ঘুরে দেখতে চান তাহলে আপনার সারাদিন চলে যাবে তাই সবচাইতে ভালো হয় আপনি যদি সকাল-সকাল চলে যান। আর হ্যাঁ এই পার্কটি সম্পূর্ণ  ঘুরতে হলে আপনাকে অনেক হাঁটতে হবে তাই আপনি সেইভাবে প্রিপারেশন নিয়ে যাবেন।

খাওয়াদাওয়ার ব্যবস্থা

সাফারি পার্কে ঢুকতে শুরুতেই কিছু খাবারের দোকান পাবেন যেখানে আপনি আপনার খাবার-দাবার সেরে নিতে পারেন। এছাড়াও আপনি বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কের ভিতর টাইগার এবং সিংহ নামে দুইটি রেস্টুরেন্ট পাবেন কাচের গ্লাস দিয়ে তৈরি করা এবং তার আশেপাশে সিংহ বাঘ এবং বিভিন্ন প্রাণী উন্মুক্ত খোলামেলা দেখতে পাবেন এটি সাফারি পার্কের সৌন্দর্য আরো বাড়িয়ে তুলেছে। পার্ক এরিয়াতে রেষ্টুরেন্টগুলো হওয়ায় এখানে খাবারের দাম তুলনামূলক একটু বেশি।

প্রয়োজনে যোগাযোগ

বন সংরক্ষক
বন্য প্রানী ও প্রক্তি সংরক্ষক অঞ্চল
বন ভবন, আগারগাও, ঢাকা
মোবাইল: ০১৭৯২৬৫৭৭১১

হোটেল,পিকনিক স্পট বুকিং সহ যেকোনো প্রয়জনে হট লাইনঃ :০১৯৭৩০০০০৪৪, ০১৮২৩০০০০৪৪, ০১৮২৩০০৪৪৮৪
ওয়েবসাইট: safariparkgazipur.info.bd

সাফারি পার্কে যাওয়ার উপায়

বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে আসতে হলে প্রথমে আপনাকে গাজীপুর চৌরাস্তা গামী  যে কোন গাড়িতে করে গাজীপুর চৌরাস্তায় আসতে হবে। তারপর সেখান থেকে বাঘের বাজার যাবেন এবং সেখান থেকে যেকোন রিকশা-অটোরিকশা তে করে আপনি বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে যেতে পারবেন।

দেশের অন্যান্য জায়গা থেকে সাফারি পার্কে আসতে হলে প্রথমে চলে আসুন গাজীপুর চৌরাস্তা এবং তারপর উপরের উল্লেখিত ব্যবস্থায় চলে যান বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে।

পর্যটকদের জন্য সতর্কতা পরামর্শ

  • বাঘ-সিংহ দেখতে চাইলে অবশ্যই সকাল দশটার মধ্যে চলে যাবেন।
  • বাঘ সিংহ ও অন্যান্য প্রাণী দেখার সময় চলন্ত গাড়ি থেকে নামবেন না।
  • ময়লা আবর্জনা যেখানে সেখানে ফেলবেন না নির্দিষ্ট ডাস্টবিনে ফেলবেন।
  • বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে ঘুরতে হলে অনেক হাটা লাগবে সেটা মাথায় রেখে যাবেন।
  • বাঘ সিংহ ও অন্যান্য বন্যপ্রাণী খাঁচা থেকে দূরে থাকুন।
  • চলাফেরা করার জন্য যেখানে যে নির্দেশনা দেওয়া আছে তা মেনে চলুন।
  • বিশ্রামাগার ব্যবহার করতে চাইলে অগ্রিম বুকিং দিয়ে নিন। 
  • পার্কের ভিতর বাহিরের খাবার নিয়ে প্রবেশ করা নিষেধ সেটি মাথায় রাখবেন।
  • বন্যপ্রাণীদের খাবার খাওয়ানো থেকে বিরত থাকুন।

গাজীপুরের কিছু অসম্ভব সুন্দর রিসোর্ট সম্পর্কে জানতে ভিজিট করুন:

আমাদের এই পোস্টটি যদি আপনার ভ্রমনের ক্ষেত্রে কিছুটা হলেও উপকারে আসে এবং ভালো লেগে থাকে তাহলে পোস্টটি শেয়ার করে আপনার আশেপাশের সবাইকে জানার সুযোগ করে দিন।


বি.দ্র. একটি সুন্দর প্রকৃতি ও পরিবেশ আমাদের দেয় একটি প্রাণবন্ত জীবন। আর এই সুন্দর পরিবেশটিকে সংরক্ষণ করার দায়িত্বটাও একান্ত আমাদের। তাই দয়া করে সেখানে কেউ মাটিতে কিছু ফেলবেন না,গাছপালা ছিঁড়বেন না এবং পরিবেশ নোংরা করবেন না। সর্বোপরি আমাদের এই সুন্দর পরিবেশকে আরও সুন্দর রাখার চেষ্টা করবেন।  

ভ্রমণ সম্পর্কিত নতুন নতুন জায়গার আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে একটিভ থাকুন

আপনার পছন্দের জায়গাগুলো যেখানে আপনি এখনও ভ্রমন করেন নি তবে সেখানে যেতে চান! এরকম নিজের সব পছন্দের স্থানগুলোর নাম লিখে ও কিভাবে যেতে হবে তার সকল তথ্যসমূহ জানতে হলে আমাদের ফেসবুক গ্রুপে হেল্প পোস্ট করুন। আমরা আপনার পছন্দের স্থানগুলোর সকল তথ্য দিতে সচেষ্ট থাকবো সর্বক্ষণ।

আর হ্যা, অবশ্যই আপনার বিশ্ব ভ্রমন অভিজ্ঞতাটি আমাদের ফেসবুক গ্ৰুপে শেয়ার করতে ভুলবেন না।

Leave a Reply