বিছনাকান্দি যাওয়ার উপায়, থাকা খাওয়া, খরচ ও সকল তথ্য
বিছানাকান্দি

বিছনাকান্দি যাওয়ার উপায়, থাকা খাওয়া, খরচ ও সকল তথ্য

বিছনাকান্দি (Bisnakandi) বাংলাদেশের উত্তর পুর্বাঞ্চলের সীমান্তবর্তী উপজেলা গোয়াইনঘাটের রস্তুমপুর ইউনিয়নে অবস্থিত। বিছানাকান্দি তে রয়েছে অজস্র পাথরের সমারোহ যায় এখানে ওখানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। আর পাথরের উপর বয়ে চলেছে নদী থেকে আসা পানির স্রোত যা তৈরি করেছে এক অপরূপ সৌন্দর্য যেটি দেখে নিমিষেই আপনার ক্লান্তি দূর হয়ে যাবে এবং এটি দেখতে দেখতে কখন যে আপনার সময় ফুরিয়ে যাবে আপনি বুঝতেই পারবেন না। বিছানাকান্দি তে পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণ হলো পাথরের উপরে স্বচ্ছ জলধারা প্রবাহ এবং পাহাড়ে পাহাড়ে মেঘের উড়াউড়ি।

বিছানাকান্দি যাওয়ার উপযুক্ত সময়

মূলত বর্ষাকালে বিছানাকান্দি যাওয়ার উপযুক্ত সময়। এই দিনে বিছানাকান্দি পূর্ণ যৌবন লাভ করে। বছরের অন্য সময় গুলোতে বিছানাকান্দিতে পাথর তোলার কাজ হয়ে থাকে বলে ভ্রমণে কিছুটা বিঘ্ন ঘটে। তবে বর্ষায় পাহাড়ি ঢল থাকে বলে পিয়াইন নদীতে এ সময় স্রোত অনেকটা শক্তিশালী হয়ে থাকে তাই এ সময় বিছানাকান্দি ভ্রমণ এর জন্য ছোট নৌকা না নিয়ে বড় ইঞ্জিনচালিত নৌকা নেওয়াই ভালো।

কোথায় থাকবেন

সিলেট থেকে মূলত বিছানাকান্দি যেতে সময় কম লাগে বলে সবাই সিলেট জেলা শহরকে রাত্রিযাপনের জন্য বেছে নেয়। এছাড়া লাল বাজার এলাকায় ও দরগা রোডে কম ভাড়ায় মানসম্মত রেস্ট হাউস পাওয়া যায়।

সিলেটের কিছু হোটেল সমূহ

  1. হোটেল রোজ ভিউ – ০৮২১-৭২১৪৩৯
  2. হোটেল স্টার প্যাসিফিক – ০৮২১-৭২৭৯৪৫
  3. ন্যাশনাল – ০৮২১-৭২১১৪৩
  4. হোটেল পলাশ – ০৮২১-৭১৮৩০৯
  5. হোটেল দরগাগেইট – ০৮২১-৭১৭০৬৬
  6. হোটেল উর্মি – ০৮২১-৭১৪৫৬৩
  7. হোটেল মুন লাইট – ০৮২১-৭১৪৮৫০
  8. হোটেল হিলটাউন – ০৮২১-৭১৬০৭৭
  9. গুলশান সেন্টার – ০৮২১-৭১০০১৮
  10. হোটেল ফরচুন গার্ডেন – ০৮২১-৭১৫৫৯০
  11. হোটেল ডালাস – ০৮২১-৭২০৯৪৫
  12. হোটেল গার্ডেন ইন – ০৮২১-৮১৪৫০৭

খাওয়াদাওয়ার ব্যবস্থা

বিছানাকান্দি তে অস্থায়ী কিছু খাবার হোটেল ছাড়া ভালো মানের কোন খাবার হোটেল নাই। তাই আগে থেকেই সাথে করে কিছু খাবার নিয়ে যেতে পারেন। এছাড়া সাথে কিছু শুকনো খাবার, পানি ইত্যাদি প্রয়োজনীয় জিনিস কিনে নিতে পারেন।

হাদারপার বাজারে গনি মিয়ার ভূনা খিচুড়ি খেতে পারেন। আপনি চাইলে সিলেট জেলা শহরে ভালো মানের কিছু রেস্টুরেন্ট আছে সেখানেও আপনি খাওয়া-দাওয়া করতে পারেন।

এছাড়া আপনি চাইলে সিলেটের জিন্দাবাজারে এলাকায় কিছু রেস্টুরেন্ট আছে সেখান থেকে খাওয়া-দাওয়া করতে পারেন সেগুলো হলো: পানসী পাঁচভাই এবং পালকি রেস্টুরেন্ট।

কিভাবে যাবেন

বিছানাকান্দি যেতে হলে প্রথমে আপনাকে সিলেট যেতে হবে। প্রায় সারাদেশ থেকেই সিলেট যাওয়ার সুব্যবস্থা রয়েছে। আপনি চাইলে বাস-ট্রেন বা আকাশপথে সিলেট যেতে পারবেন এবং সিলেট থেকে খুব সহজেই বিছানাকান্দি চলে যেতে পারো।

সড়ক পথে ঢাকা থেকে সিলেট

ঢাকা থেকে সিলেটগামী যেকোনো বাসে করে আপনি সিলেটে চলে যেতে পারবেন। মূলত ঢাকার ফকিরাপুল, গাবতলী, সায়েদাবাদ, মহাখালী, আব্দুল্লাহপুর বাস স্টেশন থেকে গ্রীনলাইন, সৌদিয়া, এস আলম, শ্যামলী ও এনা পরিবহন এর মাধ্যমে আপনি সিলেট যেতে পারবেন।

এগুলোর ভাড়া সাধারণত এসি জনপ্রতি ৮০০ থেকে ১২০০ এবং নন এসি জনপ্রতি ৪০০ থেকে ৫০০ হয়ে থাকে। বাসগুলো সকাল থেকে রাত পর্যন্ত নির্দিষ্ট সময় পরপর ছেড়ে যায়। ঢাকা থেকে সিলেট যেতে মোট ৬ থেকে ৭ ঘন্টা সময় লাগে।

ট্রেনে ঢাকা থেকে সিলেট

আপনি চাইলে কমলাপুর স্টেশন থেকে অথবা ঢাকা বিমানবন্দর স্টেশন থেকে ট্রেনের মাধ্যমে সিলেট যেতে পারবেন। উপবন, জয়ন্তিকা, পারাবত, অথবা কালনী এক্সপ্রেস এই গুলোর মধ্য থেকে যে কোন একটির মাধ্যমে আপনি ঢাকা থেকে সিলেট যেতে পারেন। শ্রেণীভেদে ভাড়া ২৫০ থেকে ১২০০ টাকা পর্যন্ত নিতে পারে। ট্রেনে করে সিলেট যেতে আনুমানিক ৭ থেকে ৮ ঘন্টা সময় লাগতে পারে।

সিলেট থেকে বিছানাকান্দি

বিছানাকান্দি যেতে হলে আপনাকে সিলেটের আম্বরখানা সিএনজি স্টেশন থেকে সিএনজি ভাড়া করে হাদারপার নামক জায়গায় যেতে হবে। সিএনজি ভাড়া জনপ্রতি ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা নিতে পারে। আর যদি সিএনজি রিজার্ভ করে নিয়ে যান তাহলে ভাড়া ১০০০ থেকে ১৫০০ টাকা পর্যন্ত নিতে পারে। হাদারপার নৌকা ঘাট থেকে নৌকা ভাড়া করে তারপর বিছানাকান্দি যেতে হবে।

বিছানাকান্দি, পান্থুমাই এবং লক্ষনছড়া কাছাকাছি হওয়ায় আপনি চাইলে সব গুলো একসাথে ঘুরে আসতে পারেন এবং সে অনুযায়ী নৌকার মাঝির সাথে কথা বলে নৌকা ঠিক করে নিতে পারেন। নৌকা ভাড়া ৮০০ থেকে ১৫০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। তবে বড় নৌকার ক্ষেত্রে ২৫০০ টাকা পর্যন্ত নিতে পারে তবে অবশ্যই আপনি নৌকা ঠিক করার সময় দামাদামি করে নিবেন।

তবে শীতকালে ও শুকনো মৌসুমে পানি কম থাকায় আপনি চাইলে হাদারপাড় থেকে পায়ে হেঁটেই চলে যেতে পারেন সে ক্ষেত্রে ৩০ থেকে ৪০ মিনিট সময় লাগতে পারে। শুকনো মৌসুমে মোটরসাইকেলেও যাতায়াত করতে পারবেন সে ক্ষেত্রে ৫০ থেকে ৬০ টাকা ভাড়া লাগতে পারে।

সিলেট জেলার আরো কিছু অসম্ভব সুন্দর জায়গা সম্পর্কে জানতে ভিজিট করুন:

আমাদের এই পোস্টটি যদি আপনার ভ্রমনের ক্ষেত্রে কিছুটা হলেও উপকারে আসে এবং ভালো লেগে থাকে তাহলে পোস্টটি শেয়ার করে আপনার আশেপাশের সবাইকে জানার সুযোগ করে দিন।


বি.দ্র. একটি সুন্দর প্রকৃতি ও পরিবেশ আমাদের দেয় একটি প্রাণবন্ত জীবন। আর এই সুন্দর পরিবেশটিকে সংরক্ষণ করার দায়িত্বটাও একান্ত আমাদের। তাই দয়া করে সেখানে কেউ মাটিতে কিছু ফেলবেন না,গাছপালা ছিঁড়বেন না এবং পরিবেশ নোংরা করবেন না। সর্বোপরি আমাদের এই সুন্দর পরিবেশকে আরও সুন্দর রাখার চেষ্টা করবেন।  

ভ্রমণ সম্পর্কিত নতুন নতুন জায়গার আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে একটিভ থাকুন

আপনার পছন্দের জায়গাগুলো যেখানে আপনি এখনও ভ্রমন করেন নি তবে সেখানে যেতে চান! এরকম নিজের সব পছন্দের স্থানগুলোর নাম লিখে ও কিভাবে যেতে হবে তার সকল তথ্যসমূহ জানতে হলে আমাদের ফেসবুক গ্রুপে হেল্প পোস্ট করুন। আমরা আপনার পছন্দের স্থানগুলোর সকল তথ্য দিতে সচেষ্ট থাকবো সর্বক্ষণ।

আর হ্যা, অবশ্যই আপনার বিশ্ব ভ্রমন অভিজ্ঞতাটি আমাদের ফেসবুক গ্ৰুপে শেয়ার করতে ভুলবেন না।

Leave a Reply