ঘুরে আসুন মহেশখালীর দর্শনীয় স্থান । ভ্রমণ গাইড
মহেশখালী কক্সবাজার

ঘুরে আসুন মহেশখালীর দর্শনীয় স্থান । ভ্রমণ গাইড

শহুরে মানুষগুলো গ্রামকে আঁকড়ে ধরে বাঁচতে চায়। চায় যানজট মুক্ত খোলামেলা এক পরিবেশ। আর ঠিক এরকম একটি সুন্দর ও মনোরম পরিবেশগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে মহেশখালী। নামটা অনেকেই হয়তো ছবিতে এবং গানে শুনেছেন তাই না? আমরা মহেশখালীর সৌন্দর্য নিজ চোখে দেখি অথবা না দেখি, কিন্তু বহু যুগ ধরে গানে গানে ঠিকই শুনে আসছি।

"যদি সুন্দর একটা মুখ পাইতাম.......যদি সুন্দর একটা মন পাইতাম! মহেশখালীর পান খিলি তারে বানাই খাওয়াইতাম"

গানটির সাথে সেই ছোট্টবেলা থেকেই আমরা সবাই কম বেশি পরিচিত। আসলে মহেশখালী মূলত পানের জন্য বাংলাদেশে সুবিখ্যাত। তবে পানের সাথে সাথে মহেশখালীর সৌন্দর্যও কিন্তু কোনো অংশে কম না।

মহেশখালীর সৌন্দর্য চোখে না দেখলে বোঝাই যেতো না যে বাংলাদেশ এতটা সুন্দর!!! আর তাই আজ আমরা আলোচলা করবো মহেশখালীর সৌন্দর্যমন্ডিত প্রাকৃতিক লীলাভূমির রূপ বৈচিত্র্যকে নিয়ে। তুলে ধরবো বাংলাদেশের বুকে চোখ ধাঁধানো সব অপার সৌন্দর্য।

মহেশখালী ফিরে এলাম “মহেশখালীর বাঁকে”……। বাংলা ছবির নাম মহেশখালীর বাঁক। ছবির থেকেও হাজার গুন্ বেশি সুন্দর এই গ্রামটি। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আরেক নাম মহেশখালী।

কি ভাবে প্রতিষ্ঠিত হলো মহেশখালী ?

১৫৫৯ সালে প্রচন্ড ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছাসের কারণে মূল ভূ-খন্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় ছোট এই দ্বীপটি। প্রাচীন ধারণা মতে, প্রায় ২০০ বছর পূর্বে বৌদ্ধ সেন মহেশ্বরের নামানুসারে স্থানটির নামকরণ হয় মহেশখালী। আবার কেউ কেউ বলেন, শিবের অপর নাম মহেশ অনুসারে জায়গাটির নামকরণ করা হয় মহেশখালী।

অন্য এক ধারণা মতে, কোনো এক কালে এক কৃষক বনের ভিতর একটি শিলা বিগ্রহ খুঁজে পান। স্বপ্নযোগে তিনি জানতে পারেন এটি মহেশ নামের এক হিন্দু দেবতার বিগ্রহ। পরে তিনি সেখানে একটি মন্দির নির্মাণ করেন এবং সেখানেই বিগ্রহটি স্থাপন করেন।

মহেশখালীর অবস্থান

কক্সবাজার জেলার অন্যতম একটি দ্বীপ মহেশখালী। কক্সবাজার থেকে মাত্র ১২ কিলোমিটার দূরে এর অবস্থান। ১৮৫৪ সালে বাংলাদেশের বুকে প্রতিষ্ঠিত হয় এই গ্রামটি। এর ঘনত্ব প্রায় ৮৩০ কিলোমিটার। আর ছোট এই গ্রামটির মোট জনসংখ্যা প্রায় ৩২১২১৮ জন। এর আয়তন প্রায় ৩৬২ বর্গ কিলোমিটার।

মহেশখালীর পশ্চিমে কুতুবদিয়া দ্বীপ ও বঙ্গোপসাগর,পূর্বে চকরিয়া ও কক্সবাজার সদর উপজেলা, দক্ষিণে আছে কক্সবাজার সদর ও বঙ্গোপসাগর এবং উত্তরে চকরিয়া উপজেলা দ্বারা বেষ্টিত।

মহেশখালীর আশেপাশে আরো কিছু সৌন্দর্যমন্ডিত স্থান

মহেশখালীতে আছে নানা অজানা অনেক সৌন্দর্যমন্ডিত স্থান। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য স্থানগুলো হলো:

১.সোনাদিয়া দ্বীপ
২.আদিনাথ মন্দির ও আদিনাথ মেলা
৩.বৌদ্ধ কেয়াং বা মন্দির
৪.রাখাইন পাড়া
৫.স্বর্ণ মন্দির
৬.মৈনাক পর্বত

বলা চলে বাংলাদেশের একমাত্র পাহাড়ি দ্বীপ হলো মহেশখালী। বিশাল এ দ্বীপের মৈনাক পর্বতের উপর অবস্থিত আদিনাথ মন্দির। দ্বীপের কারুকাজ এখানকার আগত পর্যটকদের ও দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করে তোলে।

প্রতি বছরের ফাল্গুন মাসে আয়োজন করা হয় আদিনাথ মেলা। আরও আছে বেশ কিছু বৌদ্ধ বিহার,জলাবন ও নাম না জানা নানা প্রজাতির বহু পশুপাখি। শীতকালে এখানে এসে ভিড় হয় বহু অতিথি পাখি। পাখির কিচিরমিচির ধ্বনি কানে বাজে প্রতিটি মুহূর্ত।

শীতে ঘন শুভ্র কুয়াশায় ঢাকা পরে যায় মন্দিরের চারপাশ গুলো। দেখতে কি এক অপরূপ রূপে সজ্জিত! মনে হয় কে যেন সাদা চাদরে পুরো পৃথিবী ঢেকে দিয়েছে। দ্বীপের পাশেই বিশাল ঝাউবাগান এর সমাহার ও চরপাড়া বিচ। চাইলেই ঘুরে আসতে পারেন অপরূপ সৌন্দর্যের এই স্থানটিতে।

দেখলে মন ও প্রাণ ব্যাকুল হয়ে পরবে। হাটঁতে হাটঁতে পথেই দেখা মিলবে পান গাছের সারি বাঁধানো গাছের বাগান ও লবণের মাঠ। মহেশখালীর পানের সুনাম সারা বাংলাদেশ ব্যাপী।

মহেশখালীতে আছে ছোট ছোট তিনটি দ্বীপ। সমষ্টিময় এই দ্বীপগুলো দেখার জন্যই প্রতি বছর দর্শনার্থীদের ভিড় জমে এখানে।

মহেশখালীর জনপ্রিয় খাবার

বাস থেকে নামার পরেই চোখে পরবে নজরকাড়া সব ছোট বড় হোটেলগুলো। যেখানে বাঙালিয়ানার স্বাদ পাওয়া যায়।

আশেপাশের হোটেলগুলোতে মিক্সড ভর্তা, লইট্যা ফ্রাই, কোরাল, ভেটকি, গরুর মাংস,হায়দ্রাবাদি বিরিয়ানি উল্লেখযোগ্য।

মূলত মাছ,পান, শুঁটকি, চিংড়ি, লবন ও মুক্তা উৎপাদনে মহেশখালীর সুনাম পুরো বাংলাদেশ জুড়ে। মহেশখালীর মিষ্টি মধুর ডাব আপনার ক্লান্ত মনের তৃষ্ণা মেটাবে। আর এখানকার ডাবগুলোর দামও অনেক কম। এতো কম মূল্যে আপনি আর কোথাও এতো সুমিষ্ট ডাব খেতে পাবেন না।

মহেশখালীর প্রধান আকর্ষণ

স্বল্প জনবহুল হলেও মহেশখালীর সবাই খুব কর্মব্যস্ততায় জীবন অতিবাহিত করে। উত্তর-দক্ষিণে বিস্তৃত দ্বীপটির দক্ষিণ দিকটায় বড় বাজার, উপজেলা কমপ্লেক্স, স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স, কলেজ-হয় স্কুল ইত্যাদি।

মহেশখালীর প্রথম ও প্রধান আকর্ষণবিন্দু হচ্ছে সোনাদিয়া দ্বীপ। সম্পূর্ণ মহেশখালীতে আছে ছোট ছোট টিলা। আর এই টিলাগুলো থেকে বন বিভাগের ভিতর তৈরী করা হয় সেগুন-গর্জনের বিশাল বনভূমি। এর দুপাশে জলাভূমি ও পেরাবন দিয়ে বিস্তৃত।

সোনাদিয়া দ্বীপ ও আদিনাথ মন্দির সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

বনভূমির সাগর-সৈকত ছাড়াও অন্যতম দুটি প্রধান আকর্ষণ হলো আদিনাথ মন্দির এবং বৌদ্ধ মন্দির। এর দৃষ্টিনন্দন কারুকার্যসমুহ দর্শনার্থীদের মনে কৌতূহল বাড়িয়ে দেয়।

আদিনাথ পর্বতের পাশেই হচ্ছে মৈনাক পর্বত। আদিনাথ পর্বতের প্রবেশ পথে উপজাতিরা দারুন সব বাহারি পণ্যের পসরা নিয়ে বসে থাকে। দেশ বিদেশ থেকে আগত এই পর্যটকরা এখানে আসলে দৃষ্টিনন্দন সমাহার দেখলে কিছু না কিছু কিনে যায় তারা।

মহেশখালী ভ্রমণ আপনার জীবনকে স্মরণীয় করে রাখবে। এখানে গেলেই দেখতে পাওয়া যায় দেশ বিদেশ থেকে আগত বিভিন্ন অতিথি পাখি। মহেশখালী ভ্রমণের প্রধান দৃষ্টিগোচর স্থান হচ্ছে সোনাদিয়া দ্বীপ। আসুন জেনে নেই এ দ্বীপের সব অজানা তথ্য সমূহ।

ভাবছেন কিভাবে যাবেন?

খুব যেয়ে নিজ চোখে দেখে আসতে মন চাইছে তাই না? তাহলে চলুন না কর্মব্যস্ততা এই জীবনে একটু ফাঁক পেলেই ঘুরে আসি মহেশখালী ও সোনাদিয়া দ্বীপ। পৃথিবীর সৌন্দর্যকে জেনে আসি আরও কাছ থেকে।

ভাবছেন কিভাবে যাবেন? আপনি চাইলে খুব কম খরচে ও কম সময়ে ঘুরে আসতে পারেন।

বাংলাদেশের একমাত্র পাহাড়ি দ্বীপ মহেশখালী যাওয়ার সবচেয়ে সহজ উপায় হচ্ছে কক্সবাজার থেকে। ঢাকা থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে সরাসরি বাস ছেড়ে যায়। বাস গুলো হলো

সৌদিয়া,
এস আলম,
গ্রীন লাইন,
হানিফ এনারপ্রাইজ,
শ্যামলী পরিবন,
সোহাগ পরিবহন,
মর্ডান লাইন,
শাহ বাহাদুর ইত্যাদি

যেকোনো বাসে করে সরাসরি চলে যেতে পারেন কক্সবাজার কলাতলীর সুগন্ধি পয়েন্ট। ভাড়া ৯০০ টাকা নিবে জন প্রতি। কক্সবাজার থেকে মহেশখালী ৬ নং ঘটে যাবেন লোকাল ট্রলার অথবা স্প্রিডবোটে। ভাড়া জন প্রতি ৭০ থেকে ৮০ টাকা নিবে।

অথবা কলাতলী সুগন্ধি পয়েন্ট থেকে অটোতে মাত্র ১০ টাকা ভাড়ায় চোলে যেতে পারেন বিআইডব্লিউটিএ এর ৬ নং জেটি ঘাটে। ও হ্যা অবশ্যই জেটির টং থেকে মিষ্টি সুগন্ধি মহেশখালীর বিখ্যাত পান খেতে ভুলবেন না যেন! সেখান থেকে ঘাটের টোল যাবেন ৫ টাকা দিয়ে। এভাবেই চলে যেতে পারেন স্বপ্নপুরী এই মহেশখালীতে। ঘুরে দেখে আসতে পারেন অদেখা সৌন্দর্য গুলো।

কক্সবাজার জেলার আরো কিছু অসম্ভব সুন্দর জায়গা সম্পর্কে জানতে ভিজিট করুন:

আমাদের পোস্টটি যদি কিছুটা হলেও ভালো লাগে তাহলে অবস্যই পোস্টটি শেয়ার করবেন এবং অন্যদের জানার সুযোগ করে দিন।

এবং অবস্যই আপনার ভ্রমণ অভিজ্ঞতা আমাদের সাথে ফেইসবুক গ্রুপ শেয়ার করবেন। আপনি আমাদের সাথে ফেইসবুক এ কানেক্ট থাকতে পারেন ।


বি.দ্র: আপনার পছন্দের জায়গাগুলো যেখানে আপনি এখনও ভ্রমন করেন নি তবে সেখানে যেতে চান! এরকম নিজের সব পছন্দের স্থানগুলোর নাম লিখে ও কিভাবে যেতে হবে তার সকল তথ্যসমূহ জানতে হলে আমাদের ফেসবুক গ্রুপে হেল্প পোস্ট করুন। আমরা আপনার পছন্দের স্থানগুলোর সকল তথ্য দিতে সচেষ্ট থাকবো সর্বক্ষণ।

Leave a Reply