নুহাশ পল্লী – গাজীপুর | Nuhash Polli Full Package Guidelines
Nuhash Polli

নুহাশ পল্লী – গাজীপুর | Nuhash Polli Full Package Guidelines

রাজধানী ঢাকার অদূরে গাজীপুর জেলার চান্দনা চৌরাস্তা থেকে মাত্র ১২ কিলোমিটার দূরে হোতাপাড়া বাজারের পিরুজালী গ্রামে প্রায় ৪০ বিধা জায়গার উপর প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ তাঁর স্বপ্ন ঘিরে গড়ে তুলেছেন নুহাশ পল্লী (Nuhash Polli)।

যা ১৯৯৭ সালে মাত্র ২২ বিঘা জমির উপর হুমায়ূন আহমেদের কল্পনার জগৎ নুহাশ পল্লীর বাস্তবায়ন শুরু করেন। এর প্রতিটি স্থাপনায় মিশে আছে হুমায়ূন আহমেদের স্পর্শ ও ভালোবাসা। বিভিন্ন নাটক ও সিনেমার শুটিং সহ এখানে প্রতিবছর ভিড় লেগে থাকে ভ্রমণ পিপাসু দর্শনার্থীদের।

সম্পূর্ণ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন এই নুহাশ পল্লীটির ম্যানেজার বুলবুল সর্বমোট নয় জনের একটি দল নিয়ে এখানকার সবকিছু দেখাশুনা করেন। প্রতি বছর পহেলা বৈশাখে এখানে আয়োজিত করা হয় বৈশাখী মেলার।

টিকেট মূল্য

নুহাশ পল্লীতে প্রবেশের জন্য এন্ট্রি ফি জনপ্রতি ২০০ টাকা। এছাড়া ১০ বছরের নীচে শিশুদের জন্য কোন এন্ট্রি ফি লাগে না।

  • বছরের দুই দিন অর্থাৎ হুমায়ূন আহমেদের জন্মদিন ১৩ই নভেম্বর ও তাঁর মৃত্যু দিন ১৯শে জুলাই সকল ব্যাক্তিদের জন্য নুহাশ পল্লী উন্মুক্ত থাকে। অর্থাৎ সেদিন কোন এন্ট্রি ফি দরকার হয় না।

সাপ্তাহিক বন্ধ

নুহাশ পল্লী দর্শনার্থীদের জন্য সপ্তাহে সাত দিনই সকাল ৮ টা থেকে বিকাল ৫ টা পর্যন্ত খোলা থাকে। এবং দর্শনার্থীদের বিশেষ অনুরোধে মাগরিবের আজান পর্যন্ত খোলা থাকে। 

যাওয়ার সঠিক সময়

প্রায় সারা বছরই দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকে এই নুহাশ পল্লী। তবে এপ্রিল থেকে নভেম্বর মাস পর্যন্ত সাধারন দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকে এটি। আর ডিসেম্বর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত পিকনেকের জন্য ভাড়া দেওয়া হয় নুহাশ পল্লী। তখন স্কুল, কলেজ বা অন্য কোন প্রতিষ্ঠানের পিকনিক ছাড়া সাধারন ব্যাক্তিরা এখানে প্রবেশ করতে পারে না।

তবে হুমায়ূন আহমেদের সমাধি দেখার জন্য সারা বছর যাওয়া যায় নুহাশ পল্লীতে।

নুহাশ পল্লীতে যা যা দেখতে ও উপভোগ করতে পারবেন

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ঔষধি গাছের বাগান: নুহাশ পল্লীতে আছে লেখক হুমায়ূন আহমেদের নিজ হাতে লাগানো বাংলাদেশের সবচেয়ে বৃহৎ ঔষধি গাছের বাগান যেখানে আছে প্রায় ৩০০ থেকে ৩৫০ প্রজাতির ঔষধি গাছ।

মা ও ছেলের ভাস্কর্য : নুহাশ পল্লীর গেট দিয়ে ঢুকলেই হাতের ডানে প্রথমেই সবার নজরে আসবে সাদা রঙয়ের খুব সুন্দর মা-ছেলের এই ভাস্কর্যটি। যেখানে একটি ছোট ছেলে তার মায়ের হাত ধরে দাঁড়িয়ে বাম দিকে মাকে পুরো নুহাশ পল্লী দেখাচ্ছে। 

মাটির প্রাচীর : নুহাশ পল্লীতে প্রবেশ পথেই সকল দর্শনার্থীদের চোখে পরবে বিশাল এই মাটির দেয়ালটি। আর এই মাটির দেয়ালের ভিতরে রয়েছে চার কোনা খোপ খোপ বক্স যার মধ্যে লেখক হুমায়ূন আহমেদ তার প্রিয়জন কারো জন্মদিন বা অনুষ্ঠানে খোপ যুক্ত বক্সগুলোতে মোমবাতি জ্বালিয়ে তাকে সারপ্রাইজ দিতেন।

সুইমিংপুল : এখানে আছে হুমায়ূন আহমেদের তৈরি খুব সুন্দর নীল টাইলস দ্বারা নির্মিত দুইটি সুইমিংপুল। যার একটি বড়দের জন্য হৃদয় আকৃতির পুল এবং অন্যটি পরবর্তীতে ছোটদের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে। এই পুলেই ভারতের প্রখ্যাত লেখক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় ও হুমায়ূন আহমেদ একসাথে সুইমিং করেছেন।

বর্তমানে দর্শনার্থীরা এখানে পিকনিক বা ট্যুরে আসলে তারাও এখানে সুইমিং করতে পারে। 

হুমায়ূন আহমেদের প্রিয় বাস ভবন হোয়াইট হাউস: নুহাশ পল্লীতে লেখক হুমায়ূন আহমেদের বসবাসের সেই সাদা রঙ্গের বাড়িটি সকলের কাছে হোয়াইট হাউস বা মেইন বিল্ডিং হিসেবে পরিচিত।

যা নির্মাণ সময়কালে ইরাক ও আমেরিকায় যুদ্ধ চলছিলো। হুমায়ূন আহমেদের হোয়াইট হাউসের ডিজাইন করেছেন তার খুব কাছের বন্ধু আর্কিটেক্ট ইঞ্জিনিয়ার এম এ করিম। লেখকের রাতের জ্যোৎস্না ও বৃষ্টি খুব পছন্দের বলে ডিজাইনার ঘরের ছাদ ভেঙ্গে রুমের ভিতর জ্যোৎস্না ও বৃষ্টি প্রবেশের জন্য সে ব্যবস্থা করেছেন।

মানুষের মাথার বিশাল কঙ্কাল : সুইমিংপুলের উপরে পূর্ব দিকে স্থাপন করা হয়েছে বিশাল আকারের মানুষের মাথার  এক অদ্ভুত রকমের কঙ্কাল।

যার মুখ হা করে আছে ও তার এই মুখের ভিতর থেকেই সুইমিংপুলে পড়ছে স্বচ্ছ পানি। আর তার ডানে রয়েছে মাটির টালির ছাউনি দেওয়া চারদিক খোলা একটি ঘর যেখানে হুমায়ূন আহমেদ তার পরিবারের সকলকে নিয়ে বিকালে নাস্তা করতেন।

হুমায়ূন আহমেদের মুরাল : প্রখ্যাত কথা সাহিত্যিক ও লেখক হুমায়ূন আহমেদের বাসস্থান হোয়াইট হাউসের সামনে তৈরি এই বিশালাকার মুরালটি হুমায়ূন আহমেদের ৬৭তম জন্মদিনে তাঁর স্ত্রী – প্রখ্যাত অভিনেত্রী, সঙ্গীত শিল্পী, চলচ্চিত্র নির্মাতা মেহের আফরোজ শাওন ও হুমায়ূন আহমেদের কনিষ্ঠ পুত্র নিষাদ হুমায়ূন ও নিনিথ হুমায়ূন উদ্ভোদন করেন। নুহাশ পল্লীর গেট দিয়ে প্রবেশ পথে বিশাল আকৃতির এই মুরালটি নির্মাণ করতে আর্কিটেক্ট হাফিজ উদ্দিনের প্রায় ২৫ দিন সময় ব্যায় হয়।

আম বাগান : নুহাশ পল্লীর গেটের বাম পাশে অবস্থিত এই আম বাগানটিতে হুমায়ূন আহমেদ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সবচেয়ে ভালো জাতের আমের চারা এনে রোপণ করেছিলেন। কিন্তু এই আম বাগানটি এখন নুহাশ পল্লীর গাড়ি পার্কিং এরিয়া হিসেবে ব্যবহিত হচ্ছে।

লিচু বাগান : আম বাগানের পাশেই আছে হুমায়ূন আহমেদের প্রিয় বিখ্যাত সেই লিচু গাছ যেখানে চির নিদ্রায় শুয়ে আছেন হুমায়ূন আহমেদ।

হুমায়ূন আহমেদের কথা অনুযায়ী এই বাগানের লিচু কেউ খায় না। কারন তিনি নির্দেশ দিয়েছিলেন এই বাগানের লিচু শুধু পাখিদের জন্য বরাদ্দ করা।

নামাজের ঘর : নুহাশ পল্লীর আম বাগান ও হুমায়ূন আহমেদের সমাধির সামনে আছে ছোট একটি শ্বেত পাথর দ্বারা নির্মিত নামাজের স্থান। এটি ছাড়াও নুহাশ পল্লীর দক্ষিণ-পশ্চিম কোনায় আছে আরও একটি নামাজের ঘর যেখানে জামাতে নামাজ পড়া হয়। আর মহিলারা নুহাশ পল্লীর বৃষ্টি বিলাসে নামাজ পড়তে পারবেন।

হুমায়ূন আহমেদের সমাধি : নুহাশ পল্লীর সম্পূর্ণ লিচু বাগানটিতে হুমায়ূন আহমেদের স্বচ্ছ কাঁচের দেয়ালের মাঝে ধবধবে সাদা শ্বেত পাথরের সমাধি।

সমাধিতে আছে মোট দুইটি গেট। যার একটি হচ্ছে পারিবারিক গেট যেটি দিয়ে শুধু মাত্র তাঁর পরিবার ও প্রিয়জনরা প্রবেশ করে। অন্যটি সকলের জন্য উন্মুক্ত পাবলিক গেট।    

তেঁতুল বৃক্ষ ও ভূত বিলাস : এটি নির্মাণ করা হয়েছে একদম নিরিবিলি পরিবেশে ও নুহাশ পল্লীর শেষ প্রান্তে দীঘি লীলাবতীর পাড়ে। ভূত বিলাসটির ডিজাইন করেন আর্কিটেক্ট মেহের আফরোজ শাওন।

এখানে কারো রাত্রি যাপনের অনুমতি নেই। তবে মাঝে মাঝে বিশেষ ব্যাক্তি ও প্যাকেজ ট্যুরে যারা আসেন তাদেরকে হুমায়ূন আহমেদের সৃষ্ট এই শিল্পকর্ম ঘুরে দেখানোর জন্য ভূত বিলাস খোলা হয়। 

লীলাবতীর ভাস্কর্য : হুমায়ূন আহমেদের রুমের সামনে কদম গাছের নীচে যেখানে বসে তিনি চা খেতেন সেই গোল টেবিলের সামনে স্থাপন করা হয়েছে হুমায়ূন আহমেদ ও মেহের আফরোজ শাওনের প্রথম কন্যা সন্তান লীলাবতীর সেই কাল্পনিক ভাস্কর্য।

ভাস্কর্যটি দেখলে মনে হবে লীলাবতী একটি বেঞ্চে বসে উপুর হয়ে শুয়ে বই পড়ছে আর পাশের গোল টেবিলে বসে বিকালের চা খাচ্ছে তাঁর বাবা-মা।

ট্রি হাউস : দাবা ঘর থেকে একটু সামনে এগুলেই নজরে পরবে মাঠের মাঝখানে লিচু গাছের উপরে বিখ্যাত সেই “ট্রি হাউজটি”।

পদ্ম পুকুর : আয়তকার আকৃতির এই ছোট পদ্ম পুকুরটি লীলাবতীর ভাস্কর্যের পাশে অবস্থিত।

পদ্ম পুকুরে যেতে হলে একটি গেট দিয়ে প্রবেশ করতে হয় যা পৃথিবীর সবচেয়ে তিতা গাছ আইগতিতা ও বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দেওয়া নামের ফুল “নীলমনি লতা” দ্বারা তৈরি।

বৃষ্টি বিলাস : হুমায়ূন আহমেদ সেখানে নির্মাণ করেছেন “বৃষ্টি বিলাস” নামের বিশাল আকৃতির বারান্দাসহ একটি টিনের ঘর। যেখানে বৃষ্টি হলেই হুমায়ূন আহমেদ ছুটে যেতেন এই বৃষ্টি বিলাসে বৃষ্টির ঝমঝম শব্দ শুনতে।

চা ও কফি বাগান : বৃষ্টি বিলাস থেকে একটু ডান দিকে এগুলেই দেখতে পাবেন চা বাগান। আর চা বাগানের ডান পাশে রয়েছে কফি গাছ।

উইশ ট্রি : কফি গাছের পাশে রয়েছে একটি বড় আকারের ক্যাকটাস যার আরেক নাম হুমায়ূন আহমেদ নিজে দিয়েছেন উইশ ট্রি।

বিশালাকার ব্যাঙের ছাতা : উইশ ট্রির ঠিক পিছনে রয়েছে কেয়া গাছ। আর এই কেয়া গাছের পিছনেই দেখা যাবে বিশাল আকৃতির সেই ব্যাঙের ছাতা।

কৃত্রিম পাহাড় ও চীন দেশের দৈত্য : এখানে আছে কৃত্রিম পাহাড় ও পাহাড়ের মাঝে সৃষ্ট ঝর্না। আর সেই পাহাড়ের একদম চূড়ায় নির্মাণ করা হয়েছে এক অস্বাভাবিক আকৃতির চীন দেশের দৈত্য।

রূপবতী মৎস্য কন্যা : কৃতিম পাহাড় থেকে বয়ে আসা ঝর্নার পানি দ্বারা তৈরি হয় মৎস্য কন্যা দীঘি। যে দীঘিতে অপরূপ রূপবতী এক মৎস্য কন্যা মনের আপন গতিতে দুই হাত দিয়ে তুলছে ফুটে থাকা লাল শাপলা।   

শিশু পার্ক : ডাইনোসর থেকে একটু বাম দিকে গেলে দেখা যাবে শিশুদের জন্য একটি ছোট খেলার পার্ক।

কংক্রিটের তৈরি ডাইনোসর : মৎস্য কন্যার দীঘি থেকে একটু সামনে এগুলেই চোখে পড়বে ডাইনোসর।

মাটির তৈরি ঘর ও পানির কূয়া : শিশু পার্ক থেকে বামে গেলে দেখা যাবে বিভিন্ন শুটিংয়ের জন্য নির্মিত মাটির তৈরি একটি ঘর। যার পাশে রয়েছে পুরনো সময়ের একটি পানির কূয়া।

দীঘি লীলাবতী : মাটির ঘর থেকে একটু সামনে গেলেই দেখা যাবে হুমায়ূন আহমেদ ও মেহের আফরোজ শাওনের প্রথম কন্যা সন্তান লীলাবতীর নামানুসারে একটি দীঘি।

শ্বেত পাথরের শান বাঁধানো ঘাঁট ও পূর্ণিমা উৎসব :রাতের জ্যোৎস্না উপভোগ করার জন্য হুমায়ূন আহমেদ লীলাবতী দিঘিতে বানিয়েছেন শ্বেত পাথরের শান বাঁধানো ঘাঁট।

৭০টি তাল গাছ : দীঘি লীলাবতী পাড়ের উত্তরে বাবুই পাখির বাসা বানানোর কথা চিন্তা করে হুমায়ূন আহমেদ এখানে প্রায় ৭০টি তাল গাছ লাগিয়েছেন।

পবন ঝাউ গাছ :দীঘি লীলাবতীর পশ্চিম পাড়ে সমুদ্রের গর্জন শোনার জন্য লাগানো হয়েছে অনেকগুলো পবন ঝাউ গাছ।

জমিদারী ঘাঁট :দীঘি লীলাবতীর উত্তর পাড়ে একটি পুরাতন শান বাঁধানো জমিদারী ঘাঁট আছে যেখানে শুটিং করা হয়েছে বহু জনপ্রিয় সিনেমা ও নাটকের।

লীলাবতী দ্বীপ :দীঘি লীলাবতীর মাঝখানে তৈরি করা হয়েছে অপূর্ব একটি ছোট দ্বীপ যার নামকরন হয়েছে লীলাবতী দ্বীপ। দ্বীপটিতে যেতে হলে আছে একটি সরু কাঠের সাকো।

কবুতর : এখানে আছে হুমায়ূন আহমেদের খুব পছন্দের কবুতর যা প্রতি বছর তাঁর জন্মদিনে শান্তির প্রতীক কবুতরগুলো উড়ানো হয়।

শুটিং ফ্লোর : নুহাশ পল্লীর ঠিক মাঝখানে পশিমে আছে শুটিংয়ের জন্য অনেক বড় একটি শুটিং ফ্লোর।

বিশাল আকৃতির দাবা ঘর: এখানে পাবেন জমিদার প্রজন্মের দাবা খেলার আনন্দ। কেনোনা দাবার প্রতিটি চাল আপনাকে দিতে হবে দাঁড়িয়ে ও হেঁটে হেঁটে। 

বিশাল মাঠ :নুহাশ পল্লীর প্রবেশ পথ দিয়ে ঢুকে একদম চা বাগানের পূর্ব পর্যন্ত উত্তর-দক্ষিনে আছে বিশাল বিস্তৃত একটি মাঠ।

ট্যুর প্যাকেজ

অতিথিদের জন্য এখানে আছে সারা বছরের সাপ্তাহিক ও প্রতদিনের ডে ট্যুর প্যাকেজ ব্যবস্থা।

প্যাকেজের অন্যতম সুবিধা হচ্ছে তাদের নিজস্ব বাসে করে ঢাকার মতিঝিল, শাপলা চত্তর, বঙ্গবন্ধু এভিনিউ, পলাশীর মোড়, আজিমপুর  থেকে মোট ৪টি বাস ৪টি রোডে সাফারি পার্ক ও নুহাশ পল্লীর উদ্দেশ্যে সকাল ৬ঃ৩০ মিনিটে ছেড়ে আসে।

ফ্যামিলি ট্যুর প্যাকেজ

পরিবারের কমপক্ষে ১০ জন সদস্যদের নিয়ে নুহাশ পল্লীতে গড়ে উঠেছে একদিনের ফ্যামিলি ট্যুর প্যাকেজ ব্যবস্থা যার ভাড়া জনপ্রতি ১০ সীটের হাই এইস এসি মাইক্রো বাসে যাওয়া-আসা মিলিয়ে ১৭৯৯ টাকা।

ফ্রেন্ডস এন্ড ফ্যামিলি প্যাকেজ

নুহাশ পল্লীর নিজস্ব বাসে করে এই ফ্রেন্ডস ট্যুর প্যাকেজটির ভাড়া জনপ্রতি ১৭৯৯ টাকা
এবং এটি ২৮ সিটের এসি বাস। ৪৫ সিটের নন এসি বাসে জনপ্রতি ভাড়া ১৫৫০ টাকা এবং ৪২ সিটের নন এসি বাসে ভাড়া জনপ্রতি ১৭৫০ টাকা।

সকলের জন্য প্রতিদিন ও সাপ্তাহিক ট্যুর প্যাকেজ

এখানে আছে সকলের জন্য প্রতিদিন ও সাপ্তাহিক ট্যুর ব্যবস্থা যেখানে আপনি পাচ্ছেন তাদের নিজস্ব এসি ও নস এসি বাসে করে আসা-যাওয়ার সকল সুবিধা।

২৮ সিটের ট্যুরিস্ট এসি বাসে জনপ্রতি ১৭৯৯ টাকা ও ৪৫ সিটের নন এসি বাসে জনপ্রতি ভাড়া ১৫৫০ টাকা।

ট্যুর প্যাকেজের সুবিধা

  • নিজস্ব বাসে আসা-যাওয়া।
  • মানসম্মত সকালের নাস্তা।
  • বুফে লাঞ্চ ব্যবস্থা।
  • বিকালের নাস্তা
  • নুহাশ পল্লীর স্পট ভাড়া

ট্যুর প্যাকেজটিতে যা যা থাকছে

  • বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কের মুল গেটের এন্ট্রি ফি।
  • নুহাশ পল্লী ঘুরে দেখা।
  • ট্রি হাউজ।
  • সুইমিংপুল।
  • পণ্ড আইল্যান্ড।
  • খেলার মাঠ।
  • একজন ট্যুর গাইড।
  • ঔষধি গাছের বাগান
  • মাটির ঘর
  • কাক দেশান্তরী আম গাছ

পিকনিক প্যাকেজ

প্রতি বছরের ডিসেম্বর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত নুহাশ পল্লীতে পিকনিকের জন্য ভাড়া দেওয়া হয়। অফিস ম্যানেজমেন্ট এখানে একদিনে শুধুমাত্র একটি পার্টিকে পিকনিকের জন্য ভাড়া দিয়ে থাকে।  

সরকারি ছুটির দিনে অফিস, কোম্পানির জন্য পিকনিক প্যাকেজ

সরকারি ছুটির দিনগুলোতে ৫০ থেকে ৩০০ জন অতিথির পিকনিকের জন্য একদিনের ভাড়া প্রায় ৬০ হাজার টাকা। এবং সাথে ১৫% ভ্যাট ও সার্ভিস চার্জ বাবদ আরও ৯ হাজার টাকা।

অফিস, কোম্পানির জন্য সরকারি ছুটির দিন ছাড়া পিকনিক প্যাকেজ

সরকারি ছুটির দিন ব্যাতিত অন্যান্য দিনগুলোতে ৫০ থেকে ৩০০ জন অতিথির পিকনিজের জন্য একদিনের ভাড়া প্রায় ৫০ হাজার টাকা। সাথে ১৫% ভ্যাট বাবদ আরও ৭ হাজার ৫০০ টাকা প্রদান করতে হবে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য সরকারি ছুটির দিনে পিকনিক প্যাকেজ

সরকারি ছুটির দিনে ৫০ থেকে ৩০০ জনের পিকনিক প্যাকেজের ভাড়া গুনতে হয় ৫০ হাজার টাকা। সাথে আলাদা ১৫% ভ্যাট বাবদ ৭ হাজার ৫০০ টাকা। 

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য সরকারি ছুটির দিন ছাড়া পিকনিক প্যাকেজ

সরকারি ছুটি ব্যাতিত অন্যান্য দিনে ৫০ থেকে ৩০০ জনের পিকনিক প্যাকেজের একদিনের ভাড়া প্রায় ৪০ হাজার টাকা। সাথে ১৫% ভ্যাট সহকারে আরও ৬০০০ টাকা দিতে হবে।

  • লোকসংখ্যা যদি ৩০০ জনের বেশি হয় তাহলে পরবর্তী বাড়তি সদস্যদের জন্য জনপ্রতি ১০০ টাকা ভ্যাট দিতে হবে।
  • পিকনিক ও প্যাকেজ ট্যূরের জন্য অগ্রিম ৫০% টাকা পরিশোধ করতে হবে।

পিকনিকে সদস্য সংখ্যা বেশি হলে ভ্যাট সহকারে জনপ্রতি খরচ

সদস্য সংখ্যা টাকা(জনপ্রতি) ভ্যাট(জনপ্রতি)
৩০০ থেকে ৫০০ জন ১৪৯৯ টাকা ১৫%
৫০০ থেকে ৭০০ জন ১৩৯৯ টাকা  ১৫%
৭০০ থেকে ১০০০ জন ১৩৫০ টাকা ১৫%
১০০০ থেকে ১৫০০ জন ১৩০০ টাকা ১৫%

পিকনিক প্যাকেজের সুবিধা সমুহ

  • গাড়িতে করে আসা ও যাওয়া।
  • মানসম্মত সকালের নাস্তা।
  • বুফেতে লাঞ্চ ব্যবস্থা।
  • প্যান্ডেলে একসাথে ৩০০জন অতিথির খাবার ব্যবস্থা।
  • সকলের জন্য আছে বিকালের নাস্তার ব্যবস্থা।
  • আনন্দ উপভোগের জন্য আছে থিয়েটার বা মঞ্চ। 
  • সাউন্ড সিস্টেম
  • ৩টি রেস্ট হাউজ
  • সকলের জন্য পর্যাপ্ত ওয়াশরুমের ব্যবস্থা।
  • নুহাশ পল্লীর স্পট ভাড়া সকলের জন্য জন্য উন্মুক্ত।

পিকনিক প্যাকেজ ও ট্যুর প্যাকেজের খাবার আইটেম

সকাল দুপুর বিকাল
স্যান্ডউইচ, কলা, ডিম, লেক্সাস বিস্কুট, মিনারের ওয়াটার (১টি করে) পোলাও, সবজি, মুরগি রোষ্ট, মুরগির গিলা-কলিজা দিয়ে মুগ ডাল, সালাদ, কোমল পানীয়, পায়েস, মিষ্টি, দই।
অথবা থাকছে সাদা ভাত, আলু ভর্তা, বেগুন ভর্তা, কালোজিরা ভর্তা, পটল ভাজি, মিষ্টি কুমড়ো ভর্তা, বেগুন ভাজি, পেপে ভর্তা, কাচকি শুঁটকির ভুনা, মুরগির রোষ্ট, খাসির মাংস, গরু মাংস ভুনা, মশুর ডাল, সালাদ, কোমল পানীয়, পায়েস।
গরু দুধের চা, সিঙ্গারা, সমুচা, ভাপা পিঠা, চিতই পিঠা, কেক, পুরি, ডাল ভাজা, পানি।

পিকনিক প্যাকেজ ও ট্যুর প্যাকেজের বুকিং ও ক্যান্সেলের নিয়মাবলী

  • ব্যাক্তি সরাসরি ইমেল, ফোন নাম্বার অথবা অফিসে এসে যোগাযোগ করে ট্যুর বুকিং দিতে পারে।
  • বুকিং এর সময় ৫০% টাকা অগ্রিম পরিশোধ করতে হবে।
  • অন্তত ৩দিন আগে ট্যুর বুকিং করতে হবে। আর ক্যান্সেল করতে চাইলে অবশ্যই ৪৮ ঘণ্টার পূর্বে তা ক্যান্সেল করতে হবে।
  • প্যাকেজ ট্যুর বা পিকনিকের খাবার মেন্যু পরিবর্তন করা যাবে। 

সরাসরি যোগাযোগের ঠিকানা ও ফোন নাম্বার

সাইফুর ইসলাম বুলবুল, ব্যবস্থাপক, নুহাশ পল্লী
মোবাইলঃ ০১৭১২০৬০৯৭১, ০১৭৩৮৭০৪০১০, ০১৯১১৯২০৬৬৬, ০১৭১১৯৪৭৯৩১ অথবা ০১৭১২০৬০৯৭১

যাওয়ার উপায়

ঢাকা থেকে মির্জাপুর ইউনিয়নের পিরুজালী গ্রামের নুহাশ পল্লীতে যেতে হলে প্রথমে আপনাকে গাজীপুরের হোতাপাড়া বাসস্ট্যান্ডে আসতে হবে। ঢাকা থেকে শ্রীপুর, মাওনা, কাপাসিয়া এবং হোতাপাড়ার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া বাস প্রভাতি, বনশ্রী বাসে হোতাপাড়া বাসস্ট্যান্ড নামবেন। ভাড়া জনপ্রতি ৫০ থেকে ৭০ টাকা নিবে।

হোতাপাড়া বাস স্ট্যান্ড থেকে মাত্র ৮ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত এই নুহাশ পল্লীতে পৌঁছানর জন্য সেখানেই আপনি পাবেন টেম্পু, রিকশাভ্যান অথবা বেবিট্যাক্সি। টেম্পুতে করে নুহাশ পল্লী যেতে হলে ভাড়া নিবে জনপ্রতি ৩০ টাকা। আবার রিক্সায় করে যেতে চাইলে ভাড়া নিবে ৫০ থেকে ৬০ টাকা। অন্যথায় ট্যাক্সিতে করে যেতে চাইলে ভাড়া নিবে ১০০ থেকে ১২০ টাকা।

  • চাইলে ঢাকা থেকে গাড়ি ভাড়া করে অথবা ব্যাক্তিগত গাড়িতে করে সরাসরি চলে যেতে পারেন জনপ্রিয় এই স্থান নুহাশ পল্লীতে। 

ঢাকার আশেপাশে আরো জনপ্রিয় জায়গা সম্পর্কে জানতে, ভিজিট করুন: 

আমাদের এই পোস্টটি যদি আপনার ভ্রমনের ক্ষেত্রে কিছুটা হলেও উপকারে আসে এবং ভালো লেগে থাকে তাহলে পোস্টটি লাইক দিতে ভুলবেন না। এবং পোস্টটি শেয়ার করে আপনার আশেপাশের সবাইকে জানার সুযোগ করে দিন।


বি.দ্র. একটি সুন্দর প্রকৃতি ও পরিবেশ আমাদের দেয় একটি প্রাণবন্ত জীবন। আর এই সুন্দর পরিবেশটিকে সংরক্ষণ করার দায়িত্বটাও একান্ত আমাদের। তাই দয়া করে সেখানে কেউ মাটিতে কিছু ফেলবেন না,গাছপালা ছিঁড়বেন না এবং পরিবেশ নোংরা করবেন না। সর্বোপরি আমাদের এই সুন্দর পরিবেশকে আরও সুন্দর রাখার চেষ্টা করবেন।  

ভ্রমণ সম্পর্কিত নতুন নতুন জায়গার আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে একটিভ থাকুন। 

আপনার পছন্দের জায়গাগুলো যেখানে আপনি এখনও ভ্রমন করেন নি তবে সেখানে যেতে চান! এরকম নিজের সব পছন্দের স্থানগুলোর নাম লিখে ও কিভাবে যেতে হবে তার সকল তথ্যসমূহ জানতে হলে আমাদের ফেসবুক গ্রুপে হেল্প পোস্ট করুন। আমরা আপনার পছন্দের স্থানগুলোর সকল তথ্য দিতে সচেষ্ট থাকবো সর্বক্ষণ।

আর হ্যা, অবশ্যই আপনার বিশ্ব ভ্রমন অভিজ্ঞতাটি আমাদের ফেসবুক গ্ৰুপে শেয়ার করতে ভুলবেন না।

Leave a Reply