পদ্মা রিসোর্ট । একদিনেই ঘুরে আসুন স্বপ্নিল ভুবনে
পদ্মা রিসোর্ট

পদ্মা রিসোর্ট । একদিনেই ঘুরে আসুন স্বপ্নিল ভুবনে

প্রকৃতির এক অপার সৌন্দর্যের রূপ রহস্যে ঘেরা পদ্মা রিসোর্ট (Padma Resort)। যেখানে গেলে মনে হবে কোন এক গ্রাম বাংলার প্রাকৃতিক পরিবেশের সান্নিধ্যে আপনি মিশে আছেন! কি ভাবতেই অবাক লাগছে তাই না? এই ভাবছেন যে যান্ত্রিকপূর্ণ এই ঢাকার ভেতর  আবার গ্রামের আভাস! হ্যাঁ তাই তো শহরের এই ঘনবসতি ও কর্মব্যস্তময় জীবনে যখন আপনার দম বন্ধ হয়ে আসছে ঠিক তখনই কোন এক বিকেলে নিজের ক্লান্ত মনকে একটু শান্ত করতে হলে ঘুরে আসুন বিশাল পদ্মা নদীর গাঁ ঘেঁষে যাওয়া এই পদ্মা রিসোর্ট থেকে।

ভ্রমনপিপাসুদের ক্ষেত্রে যারা নদী ও সমুদ্র দেখতে ভালোবাসেন এবং নীলচে পানির সাথে কথা বলতে চান প্রান খুলে তাদের জন্য এটি একটি আদর্শ স্থান।

আপনার ছুটির দিনগুলোকে আরও আনন্দময় ও সৃতিমধুর করে তোলার জন্য চাইলেই এখানকার ক্যাফেটেরিয়ার বারান্দায় দাড়িয়ে পদ্মার নির্মল প্রকৃতি উপভোগ করতে পারেন। আবার  চাইলেই রিসোর্টের কাঠের কটেজগুলো ভাড়া নিয়ে কিছুটা সময় কাটাতে পারেন একাকিত্তে।

পদ্মা রিসোর্টের অবস্থান

প্রচলিত আছে যে, মিষ্টি আলুর দেশ মুন্সিগঞ্জ। এই মুন্সিগঞ্জ জেলার লৌহজং উপজেলায় অবস্থিত জনপ্রিয় এই পদ্মা রিসোর্ট যা ঢাকা থেকে মাত্র ৫০ কিলোমিটার এবং নারায়ণগঞ্জ থেকে মাত্র ২৯ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। প্রায় দশ একর জায়গা জুড়ে গড়ে ওঠেছে এই পদ্মা রিসোর্ট।

মূলত মুন্সিগঞ্জ জেলার প্রায় পুরোটা জুড়েই ঘিরে আছে পদ্মা নদী। আর নদীর নামানুসারে এই রিসোর্টের নামকরন করা হয়েছে পদ্মা রিসোর্ট। বলতে গেলে, বাংলাদেশে যে কয়টি ইকো রিসোর্ট রয়েছে তার মধ্যে এটি অন্যতম।

প্রকৃতির সাথে মিল রেখে এতো সুন্দর করে এই রিসোর্টটি নির্মাণ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মাদ আলী। যিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই অনার্সে বি.কম এবং একাউন্টিং নিয়ে এম.কম পড়াশুনা শেষ করে সেই বিশ্ববিদ্যালয়েরই অধ্যাপক হিসেবে নিযুক্ত আছেন বর্তমানে। তিনি দীর্ঘদিন যাবত জাহাজের ব্যবসা করেছেন যার নাম ছিল গোল্ড স্টার লাইন। তার নিজ গ্রামের বাড়ি লৌহজং উপজেলায়। তিনি পর্যটকদের সব ধরনের বিনোদনের কথা বিবেচনা করেই এই রিসোর্টটি নির্মাণ করেন।  

পদ্মা রিসোর্টের পরিবেশ

নদী পাড় হয়ে ট্রলার বা স্প্রিডবোট থেকে নামলেই চোখ যতদূর যাবে দেখা যাবে শুধু সবুজের সমারোহ আর চারিদিকে পদ্মা নদী প্রবাহিত হওয়ার ফলে সাথে হালকা মৃদু বাতাস। যা আপনার এতোটা পথ অতিক্রমকে শান্তিতে ভুলিয়ে দিবে নিমিষেই। বিশাল বিস্তৃত চর এর রূপ-প্রকৃতির এক অপার সৌন্দর্য নিয়ে গড়ে উঠেছে এই পদ্মা রিসোর্ট।

পদ্মার নয়নাভিরাম সৌন্দর্য উপভোগের জন্য বিকেলে লেভিশ বিচে চেয়ারে শরীর এলিয়ে দিয়ে দেখতে পারেন পদ্মার ঢেউ খেলা। অথবা ঘোড়ায় চড়ে বেড়াতে পারেন পদ্মার পাড় জুড়ে। আর বর্ষায় রূপ বদলাতে থাকে এই রিসোর্টের। বর্ষার পানিতে কাঠের কটেজগুলোর চারপাশ থাকে সব সময় পানিতে টইটুমবুর! দেখলেই মনে হয় কটেজগুলো যেন পানির উপর ভেসে আছে। সেখানের কাঠের বেলকনি, বেঞ্চে অথবা সবুজ ঘাসের চাঁদরে বসে প্রিয় গানটা শুনতে শুনতে হারিয়ে যেতে পারেন কিছুক্ষনের জন্য স্বপ্নিল ভুবনে।

চাইলেই বন্ধুদের সাথে হ্যাংআউট ও জম্পেশ আড্ডায় মেতে উঠতে পারেন আপনিও। রিসোর্টের বালুচরে রাতের আঁধারে ক্যাম্প ফায়ার বা বারবিকিউ করতে পারেন। ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র এই আনন্দটুকু ভাগাভাগি করে নিতে পারেন আপনার নিজের পরিবারের সাথে। পদ্মার পাড়ে বিকেলে সুয্যি মামাকে সকলে মিলে বিদায় জানানো! কি এক অপরূপ দৃশ্যাবলী! ইচ্ছে হলেই এই বালুচরে আপনি করতে পারেন পিকনিক,আবার ইচ্ছে হলে নিজেরাই এখানে রান্না করে এই মজাদার সময়টাকে উপভোগ করতে পারেন।

পদ্মা নদীর টাটকা ইলিশ এর বিভিন্ন খাবার খেতে চাইলে চলে যেতে পারেন এই পদ্মা রিসোর্ট। এখানে আছে টাটকা শাকসবজি ও নানা ধরনের ফলমূল। নদী পাড়ে আছে ছোট-বড় নৌকার ব্যবস্থা। ইচ্ছে হলেই নৌকায় করে ঘুরে বেড়াতে পারেন পুরো পদ্মা জুড়ে। রাবার বোট, স্প্রিড বোট অথবা কান্ট্রি বোটে করে ঘুরে আসতে পারেন পদ্মার বুকে। অথবা নদীতে ছিপ দিয়ে মাছ ধরার জন্য ফিশিং বোটে চলে যেতে পারেন মাছ শিকারে। ভ্রমণকারীদের জন্য এখানে আছে প্রতিটি বোটেই লাইফ জ্যাকেটের সু-ব্যবস্থা। চর থেকে একটু দূরে গেলেই দেখা মিলবে চরাঞ্চলের সহজ-সরল এবং খুব সাধারন গ্রাম্যজীবন।

পদ্মা রিসোর্টের এন্ট্রি ফি

পদ্মা রিসোর্ট যেতে হলে লৌহজং থানা ঘাটে এসে পাবেন দুইটি ট্রলার। যা শুধুমাত্র পদ্মা রিসোর্টে যাওয়ার জন্য পর্যটকদের আনা-নেওয়া করা হয়। ট্রলারে উঠলে ভাড়া নিবে মাত্র ৫০ টাকা। আর বলে রাখা ভালো যে, এই ৫০ টাকার মধ্যেই তারা রিসোর্টে প্রবেশ ফি এবং ভ্রমন শেষে যাওয়ার জন্য ট্রলার খরচ নিয়ে নিয়েছে (১০ টাকা ট্রলার খরচ এবং ৪০ টাকা রিসোর্টের এন্ট্রি ফি) ।

পদ্মা রিসোর্ট কটেজ সম্পর্কে তথ্য

সবচেয়ে কম খরচে ভালো ভ্রমন করতে চাইলে সবাই পদ্মা রিসোর্টকে বেঁছে নেওয়ার উদ্দেশ্য হচ্ছে পদ্মার সৌন্দর্য ও রিসোর্টের কটেজগুলো। কটেজের চারপাশটা ভরে থাকে পাখির কিচিরমিচির ধ্বনিতে।

পদ্মা নদীর ধার ঘেঁষে অবস্থিত এই রিসোর্টে আছে সর্বমোট ১৬টি কটেজ। আর সবচেয়ে মজার ব্যাপার হচ্ছে এই ১৬টি কটেজের প্রথম ১২টি হচ্ছে বাংলা ১২মাসের নামানুসারে রাখা। আর বাকি ৪টি কটেজ গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত বাংলা এই ঋতুর নামগুলো অনুযায়ী রাখা হয়েছে।

তবে একটু নিরিবিলি থাকতে চাইলে বাংলা মাসের নামে পরিচিত পশ্চিম দিকের কটেজগুলো বেছে নেওয়াটাই সর্বোপরি উত্তম। প্রতিটি কটেজে আছে দুইটি সিঙ্গেল বেড রুম, একটি বড় বেড রুম, একটি ডাইনিং রুম, দুইটি বারান্দা এবং একটি বাথরুম। বাঁশ ও কাঠ দ্বারা নির্মিত এই কটেজগুলো বর্ষার পানিতে চারপাশটা পরিপূর্ণ থাকে। দূর থেকে মনে হয় কটেজগুলো যেন পানির উপরেই ভাসছে।

আর শীত মৌসুমে কটেজগুলোর চারপাশ রঙ-বেরঙের ফুলে ভরে ওঠে। আর আপনি কটেজের বারান্দায় রাতের আঁধারে ইজি চেয়ারে দুলতে দুলতে গুনতে পারেন রাতের আকাশের তারা।  

প্রতিটি কটেজে আটজন করে থাকা যাবে। তবে বিশেষ ভাবে সকলের নজর কাড়ে সুন্দরী পাতা দিয়ে নিখুঁত ভাবে সজ্জিত করা ঘরের চাল। ডুপ্লেক্স এই কটেজের নিচ তলায় রয়েছে এক সেট সোফা, টেবিল, সিঙ্গেল বেড। আর তার দেড় তলায় উঠলেই দেখা যাবে অত্যাধুনিক ফিটিংসহ কমোড, সুন্দর একটি বেসিন এবং লুকিং গ্লাস, শাওয়ার ইত্যাদি দিয়ে খুব সুন্দর করে সুসজ্জিত একটি বাথরুম। দ্বিতীয় তলায় আছে খুব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন সাজানো দুইটি সিঙ্গেল বেড, আর দুই বেডের মাঝখানে সেন্টার টেবিল ও ওয়ারড্রব।

কটেজ ভাড়া

পদ্মা রিসোর্টের প্রকৃতির সাথে আরও কিছুটা সময় উপভোগ করতে চাইলে এখানে কটেজ ভাড়া নিয়ে কিছুটা সময় থাকতে হবে। পদ্মা রিসোর্টে অনেক কম খরচে ভালো মানের কটেজ পাওয়া যায়। প্রতিটি কটেজের ১৫% ভ্যাট বাবদ দৈনন্দিনের ভাড়া নিচে দেওয়া আছেঃ

সময়সূচী মূল্য
সকাল ৯:০০ টা থেকে বিকাল ৫:০০ টা পর্যন্ত ২৩০০ টাকা মাত্র
সন্ধ্যা ৬:০০ টা থেকে পরদিন সকাল ৯:০০ টা পর্যন্ত ২৫০০ টাকা মাত্র
সম্পূর্ণ দিন(দিন+রাত ২৪ ঘণ্টা) ৩৫০০ টাকা মাত্র
বিনোদন ও অন্যান্য সুব্যবস্থা

মূলত পর্যটকদের বিনোদনের কথা বিবেচনা করে এখানে দূর থেকে দূরান্তর ছুটে আসা মানুষগুলোর জন্য আছে সর্বোপরি বিনোদনের ব্যবস্থা। এখানে আছে ফুটবল, ব্যাডমিন্টন, ক্রিকেট খেলার জন্য সু-ব্যবস্থা। চাইলেই বন্ধু-বান্ধব বা পরিবার-পরিজনদের নিয়ে করতে পারেন বারবিকিউ পার্টি। অথবা বিশাল সুবিস্তৃত এই বালুচরে করতে পারেন কোন এক পিকনিকের আয়োজন। এখানে আছে ছোট-বড় সবার জন্য খেলার ব্যবস্থা। নদীর পানির টলটল শব্দ আরও কাছ থেকে শুনতে চলে যেতে পারেন পদ্মার পাড়ে। সেখানে বোটের সুব্যবস্থা আছে। চাইলেই ঘুরে আসতে পারেন পদ্মার বুক জুড়ে।

রিসোর্টে আছে তিন ধরনের বোট ভ্রমনঃ

স্প্রিডবোট রাইডঃ পদ্মা রিসোর্টে যেয়ে শীতল পানিতে সাঁতার কাটা অথবা স্প্রিডবোটে পুরো পদ্মার বুকে পাড়ি দিয়ে ঘুরে আসতে লাগবে ঘণ্টায় জনপ্রতি ২৫০০ টাকা মাত্র।

সাম্পান রাইডঃ পদ্মা নদীর পাড়ে গেলে পাওয়া যাবে স্প্রিডবোট, সাম্পান অথবা ট্রলারে করে নদী ভ্রমনের সুবিধা। তবে বোট ভেদে টাকার পরিমাণ কম-বেশি আছে। যারা সাম্পানে উঠবেন তাদের জন্য ঘণ্টায় জনপ্রতি ১২০০ টাকা নিবে।

ট্রলার রাইডঃ আর যারা ট্রলারে করে যেতে চান তাদের ক্ষেত্রে জনপ্রতি ৬০০ টাকা করে নিবে সম্পূর্ণ পদ্মা নদীর সৌন্দর্য উপভোগ করতে।

খাবার হোটেল বা রেস্টুরেন্ট

সারাদিন রোদে পুড়ে প্রকৃতির রাজ্যে ঘুরে এই ক্লান্ত শরীর ও পেটকে শান্ত করার জন্য মরিয়া হয়ে নিশ্চয়ই যে কোন খাবার হোটেল খুঁজবেন? কি তাই না? তবে বলে রাখা ভালো যে রিসোর্টের আশেপাশে ভালো কোন খাবার হোটেল নেই।

কিন্তু পর্যটকদের কথা মাথায় রেখে রিসোর্টের ভিতরে একটি হোটেল আছে। যেখানে অনায়াসে ২০০ জন লোক একসাথে বসে খেতে পারে। আপনি চাইলেই লাঞ্চ বা ডিনারসহ যেকোনো পার্টি বা পিকনিকের বন্দোবস্ত করতে পারেন এখানে। এই হোটেলটিতে কর্মচারীরা সর্বক্ষণ পর্যটকদের সেবায় ব্যস্ত থাকে। খুব সুন্দর ডেকোরেশন এর মাধ্যমে মোট ২০টি চেয়ার দ্বারা সাজানো হয়েছে এই হোটেল।

তবে এখানের খাবারের ম্যানুর তুলনায় দামটা তুলনামূলক ভাবে একটু বেশি। তাই যেহেতু রিসোর্টে ঢুকার সময় কোন প্রকার চেকিং করা হয় না সেহেতু ব্যাগে করে বাসা থেকে খাবার নিয়ে এলে আপনাদের জন্যই ভালো হবে। এছাড়াও এখানে খেতে হলে আপনাকে আগে হোটেল অফিস থেকে ফুড টোকেন সংগ্রহ করতে হবে।

ফুড টোকেনের ফুল প্যাকেজটি নিচে দেওয়া আছেঃ

সময়সূচী ম্যানু মূল্য
সকালপরোটা, ডাল, সবজি, ডিম ভাজা, চা। ১০০ টাকা মাত্র
দুপুরভাত, ডাল, ইলিশ ভাজা (১পিস), মুরগি মাংস
(বড় ১পিস), বেগুন ভর্তা, সবজি, সালাত।
৪৫০ টাকা মাত্র
রাতভাত, ডাল, ইলিশ ভাজা (১পিস),
মুরগি মাংস (১পিস), বেগুন ভর্তা,
সবজি, সালাত। (কেউ মোরগ-পোলাও খেতে চাইলে
অর্ডার করলে তারা দিবে)
৪৫০ টাকা মাত্র

সাথে কোমল পানীয়র মূল্য নিচে দেওয়া আছেঃ

বিভিন্নতা মূল্য
মিনারেল ওয়াটার ১ লিটার ৪০ টাকা
ক্যান ৪০ টাকা
পেপসি ১.৫ লিটার ১০০ টাকা
পেপসি ২ লিটার ১৫০ টাকা

পদ্মা রিসোর্ট বুকিং সিস্টেম

পদ্মার হাওয়ায় ভাসতে চাইলে অবশ্যই পদ্মা রিসোর্টে যেতে হবে। বাংলার এই অপরূপ প্রকৃতি দেখার জন্য পদ্মা রিসোর্টে এখন সবসমই পর্যটকদের আনাগোনা লেগেই থাকে। তাই সরকারি ছুটির দিনগুলোতে রিসোর্টে গেলে কটেজগুলো খালি পাওয়া যায় না। আর এ জন্য ছুটির দিনগুলতে যেতে হলে অবশ্যই যাবার আগে কটেজ বুকিং দিয়ে দিবেন। তাহলে আর ঝামেলা পোহাতে হবে না। কটেজ বুকিং করতে হলে তাদের ঢাকা অফিসে আপনাকে বুকিং মানি দিয়ে বুক করতে হবে।

পদ্মা রিসোর্টের কটেজ বুকিং করতে চাইলে সরাসরি যোগাযোগ করুনঃ

এস এম নজরুল ইসলাম (জেনারেল ম্যানেজার)
মবাইলঃ ০১৭১২১৭০৩৩০ অথবা ০১৭৫২৯৮৭৬৮৮
টেলিফোনঃ ৮৭৫২৬১৭

এছাড়াও যারা পদ্মা রিসোর্ট ও কটেজ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য জানতে চান তারা যোগাযোগ করুন সরাসরি পদ্মা রিসোর্ট অফিসেঃ

সাদিক হোসেন(মান্না)
০১৭২৬৩০৬৫১৬ অথবা ০১৬২৫৭৮৮৯২০
রিসোর্টের মোবাইল নাম্বারঃ ০১৭৪৬০২৬১৩৪

বি.দ্র. শুক্রবার ব্যাতিত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সকল তথ্য জানার জন্য যোগাযোগ করা যাবে।

কি পোস্টটি পড়ে সত্যি সত্যি পদ্মার প্রকৃতির সাথে মিশে গেছেন তাই না? খুব যেতে ইচ্ছে করছে? তাহলে আর দেড়ি না করে ঘুরে আসুন একদিনে পদ্মা রিসোর্ট।

আর কিভাবে যাবেন তা নিয়ে চিন্তা করছেন? তাহলে বলে দেই, হ্যা আপনিও যেতে পারবেন খুব কম খরচে ও কম সময়ে এই পদ্মা রিসোর্টে।

পদ্মা রিসোর্ট আপনি যেভাবে যেতে পারবেনঃ

ঢাকা থেকে পদ্মা রিসোর্টঃ

মিরপুর ১০ নাম্বার, ফার্মগেট, শাহবাগ থেকে আপনি যেতে পারেন স্বাধীন পরিবহন করে। আবার মাওয়া ঘাট পর্যন্ত যেতে পারেন গ্রেট বিক্রম অথবা গোধূলি পরিবহনে। ভাড়া নিবে জনপ্রতি ৭০ টাকা করে। সেখান থেকে মাওয়া ফেরিঘাট যাওয়ার পূর্বে লৌহজং থানা যাওয়ার পথে আপনাকে মাওয়া চৌরাস্তা নামতে হবে। চৌরাস্তা নেমে রিক্সা অথবা অটোরিক্সা করে ১০ মিনিটের পথ পদ্মা রিসোর্ট।

সায়েদাবাদ, গুলিস্তান স্কোয়ার মার্কেটের পূর্ব পাশে ও যাত্রাবাড়ী গোলচত্তরের পূর্ব-দক্ষিন দিক থেকে ঢাকা- মাওয়া এবং ঢাকা- লৌহজং যাওয়ার জন্য প্রচেষ্টা, মাওয়া-ইলিশ,আরাম, স্বাধীন, গাংচিল ও বিআরটিসি এসি ও নন এস বাস ছাড়ে। নামবেন মাওয়া চৌরাস্তা। আর গাংচিল বাসটি একদম রিসোর্টের ঘাট পর্যন্ত আসে তাই বেশিরভার লোকেরাই এই বাসটিতে যাতায়াত করে। ভাড়া নিবে জনপ্রতি এসি ১১০ টাকা ও নন এসি ৮০ টাকা করে। সেখান থেকে অটোতে মাত্র ৩০ টাকা দিয়ে আপনি পৌঁছে যাবেন পদ্মা রিসোর্ট এর মনোরম এই পরিবেশটিতে।

আর আপনার যদি থাকে ব্যাক্তিগত প্রাইভেট কার তাহলে তো কথাই নেই! পদ্মা রিসোর্ট ভ্রমনের যাত্রাপথে আপনাকে দুই জায়গায় মোট ৬০ টাকা টোল দিতে হবে। আর আপনার গাড়িটি রাখার জন্য লৌহজং থানার পাশে জায়গা আছে। আর মসজিদ ঘাটেই আছে ইঞ্জিন চালিত নৌকা ও স্প্রিডবোট যার মধ্যমে আপনি রিসোর্টে প্রবেশ করা ও পুনরায় আবার ফিরে আসতে পারবেন। ভাড়া নিবে মাত্র ৫০ টাকা।

নারায়ণগঞ্জ থেকে পদ্মা রিসোর্টঃ

<>নারায়ণগঞ্জ থেকে মাত্র ২৯ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই পদ্মা রিসোর্ট। নারায়ণগঞ্জ বাস টার্মিনাল থেকে দিঘিরপাড় পরিবহন করে মুক্তারপুর ব্রিজে নামতে হবে। সেখান থেকে সিএনজি করে সরাসরি আপনি চলে যেতে পারেন পদ্মা রিসোর্টে। সিএনজিতে ভাড়া ১০০ থেকে ১২০ টাকা নিবে। যেতে সময় লাগবে মাত্র ২ ঘণ্টা।

বিভিন্ন রিসোর্ট সম্পর্কে আরো জানতে, ভিজিট করুন:

আমাদের পোস্টটি যদি আপনার কাছে কিছুটা হলেও ভালো লেগে থাকে ও আপনার ভ্রমণকে আনন্দ দিয়ে থাকে তাহলে অবশ্যই পোস্টটিতে লাইক দিতে ভুলবেন না। আর পোস্টটি শেয়ার করে অন্যকে জানার সুযোগ করে দিবেন।


বি.দ্র. একটি সুন্দর প্রকৃতি ও পরিবেশ আমাদের দেয় একটি প্রাণবন্ত জীবন। আর এই সুন্দর পরিবেশটিকে সংরক্ষণ করার দায়িত্বটাও একান্ত আমাদের। তাই দয়া করে সেখানে কেউ মাটিতে কিছু ফেলবেন না,গাছপালা ছিঁড়বেন না এবং পরিবেশ নোংরা করবেন না। সর্বোপরি আমাদের এই সুন্দর পরিবেশকে আরও সুন্দর রাখার চেষ্টা করবেন।  

আপনার পছন্দের জায়গাগুলো যেখানে আপনি এখনও ভ্রমন করেন নি তবে সেখানে যেতে চান! এরকম নিজের সব পছন্দের স্থানগুলোর নাম লিখে ও কিভাবে যেতে হবে তার সকল তথ্যসমূহ জানতে হলে আমাদের ফেসবুক গ্রুপে হেল্প পোস্ট করুন। আমরা আপনার পছন্দের স্থানগুলোর সকল তথ্য দিতে সচেষ্ট থাকবো সর্বক্ষণ।

আর হ্যা, অবশ্যই আপনার বিশ্ব ভ্রমন অভিজ্ঞতাটি আমাদের ফেসবুক গ্ৰুপে শেয়ার করতে ভুলবেন না।