ঘুরে আসুন একদিনে পানাম নগর সোনারগাঁও লোকশিল্প জাদুঘর  – পানাম নগর | সোনারগাঁও
পানাম নগর

ঘুরে আসুন একদিনে পানাম নগর সোনারগাঁও লোকশিল্প জাদুঘর – পানাম নগর | সোনারগাঁও

কে না চায় বলুন তো প্রাচীন ঐতিহ্য ও ইতিহাস জানতে? যেখানে গৌরবাজ্জল ইতিহাস কথা বলে প্রাচীন ঐতিহ্য সম্পর্কে। যেখানে জানতে পারবেন শত বছর পূর্বের পুরোনো ইতিহাস নিয়ে।

কিন্তু জানার আগ্রহ বাড়তে থাকলে ও কমতে থাকে আমাদের সময়। সময়ের সল্পতার জন্য অনেকেই আমরা নিজের মনের প্রশান্তির কথা চিন্তাও করতে পারি না। দিনে দিনে হয়ে যাচ্ছি সবাই রোবটের ন্যায় । চাইলেই এই ইট-পাথর আর ধূলোবালির শহর ছেড়ে আপনিও পারেন স্বাধীনভাবে প্রাচীন ইতিহাস সম্পর্কে জানার উদ্দেশ্যে কোনো এক ঐতিহ্যময় অঞ্চলগুলোতে যেতে।

ঠিক এরকম একটি প্রাচীন ঐতিহ্যময় শিল্পাচার্য অঞ্চলের মধ্যে অন্যতম প্রধান স্থান দখল করে আছে সোনারগাঁও এর লোকশিল্প জাদুঘর ও পানাম নগর। মনে হবে, এখানকার বাতাস, গাছপালা, দালান, সব কিছুই আপনার সাথে কথা বলে।

সোনারগাঁও লোকশিল্প জাদুঘর

রাজধানী ঢাকা শহর থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার পূর্বে সোনারগাঁও এর অবস্থান। প্রাচীন বাংলার রাজধানী সোনারগাঁও ও পানাম নগর। গেলেই সবার আগে চোখে পরবে সবুজের সমারোহ এবং বন বনানীর শ্যামল ছায়ায় মনোরম কারুকার্য মন্ডিত স্থাপত্য শৈলী। প্রকৃতির সৌন্দর্য ছাড়াও নিবিড় ডাক, পাখ পাখালির ডাক, হৃদয় ছোঁয়া নৈসর্গিক পরিবেশ পর্যটকদের মন ও প্রাণ কেড়ে নেয়।

অনুপম স্থাপত্যশৈলীর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের নান্দনিক ও নৈসর্গিক পরিবেশে ঘেরা বাংলার প্রাচীন এই রাজধানী সোনারগাঁও। সোনালী অতীতের সুবর্ণ অধ্যায় জুঁড়ে আছে শত বছরের পুরোনো স্মৃতি।

মতানুসারে, মহারাজ জয়ধ্বজ্যের সময় এই অঞ্চলে একসময় সুবর্ণ বৃষ্টি হয়েছিল বলে এই স্থানের নাম করণ করা হয় সুবর্ণ গ্রাম। আবার কেউ কেউ ধারণা করেন বাংলার বারো ভূঁইয়াদের প্রধান ঈশা খাঁ এর স্ত্রী সোনাবিবির নামানুসারে এর নাম করণ করা হয়েছে সোনারগাঁও। সোনারগাঁও এর আরেকটি নাম ছিল পানাম।

সোনারগাঁওয়ে মূলত স্থান পেয়েছে বাংলার অবহেলিত গ্রাম-বাংলার নীরব শিল্পীদের হস্তশিল্প, জন জীবনের নিত্য ব্যবহার্য সব পণ্য সামগ্রী। প্রাচীন ধারণা মতে, এটি ছিল মুসলিম সুলতানের রাজধানী।

সোনারগাঁওয়ে সুবিশাল লোকশিল্পময় জাদুঘরটি সকলের চোখে পড়ার মতোই। এছাড়াও আছে একটি লোকজ মঞ্চ, সেমিনার কক্ষ ও আছে কারুশিল্পমণ্ডিত গ্রাম। জাদুঘরে সংরক্ষিত আছে প্রায় সাড়ে চার্ হাজার নিদর্শন।


প্রাচীন লোকশিল্প মেলা

শীতকালে এখানে সারা মাস ব্যাপী প্রাচীন লোকশিল্প মেলা হয়ে থাকে। মেলাতে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী পোশাক থেকে শুরু করে আনুষাঙ্গিক সব ধরণের জিনিসপত্র পাওয়া যায়।লোক ও কারুশিল্প জাদুঘর এলাকার ভিতরে গেলেই দেখা মিলবে কৃত্রিম লেকে নৌকা ভ্রমণের সুব্যবস্থা।

আরও দেখা যায় প্লাস্টিক ও কাঠের তৈরী বিশাল আকৃতির কারুকাজের নৌকা। এখানে আরও আছে সর্দার বাড়ি। যেখানে দেখতে পাবেন মোট ১০টি গ্যালারি। এই গ্যালারি গুলোতে কাঠ, খোদাইকৃত কারুশিল্প, পটচিত্র, মুখোশ, আদিবাসী জীবনভিত্তিক বিভিন্ন নিদর্শন, গ্রামীণ লোকজীবনের পরিবেশ, লোকজ বাদ্যযন্ত্র ও পোড়ামাটির নিদর্শন, তামা, কাজ, অথবা পিতলের নিদর্শন, লোহার তৈরী নিদর্শন, লোকজ অলংকার সহ আরো অনেক কিছু।

এর বাহিরে আছে বিশাল পাঠাগার, ডকুমেন্টেশন সেন্টার, সেমিনার হল, ক্যান্টিন, কারুমঞ্চ, গ্রামীণ উদ্যান, মনোরম নজরকাড়া লেক আর লেকের মাঝে আছে ঘুরে বেড়ানোর জন্য নৌ বিহার।আছে মৎস শিকারের জন্য সুন্দর সুব্যবস্থাও পঙ্খীরাজ্ নৌকা।

কারুপল্লীতে বৈচিত্রময় দোচালা, চৌচালা ও উপজাতীয়দের আদলে তৈরী ঘরে দেশের বিভিন্ন অবহেলিত অথচ দক্ষ কারুশিল্পী তৈরী বাঁশ, বেত, কাঠের খোদাইকৃত মাটি, জামদানি, নকশিকাঁথা, একতারা, পাট, শঙ্খ, মৃৎশিল্প, ঝিনুকের তৈরী নানা ধরণের সামগ্রী ইত্যাদি কারুকার্যখচিত নানান পণ্যের প্রদর্শনী ও বিক্রয় কেন্দ্র গড়ে ওঠ।

পানাম নগর বা পানাম সিটি:

ওয়াল্ড মনুমেন্ট ফান্ড ২০০৬ সালে পানাম নগরীকে বিশ্বের ধ্বংস প্রায় ১০০ টি ঐতিহাসিক স্থাপনার তালিকাভুক্ত করেন।সোনারগাঁওয়ের ২০ কিলোমিটার এলাকা জুঁড়ে পানাম নগর গড়ে উঠে।

সোনারগাঁও লোক ও কারুশিল্প জাদুঘর থেকে মাত্র আধা কিলোমিটার দূরে পানাম সিটি অবস্থিত। এর সুন্দর্য মূলত ফুটে উঠেছে এর প্রাচীন দালানগুলো কে ঘিরেই।

এটি এখন হারানো নগরী নাম সুপরিচিত। পানাম নগরীর নির্মাণশৈলী ছিল অপূর্ব ও সত্যি অসাধারণ। মূলত বাংলার তাঁত ব্যবসায়ীদের মূল কেন্দ্র বিন্দু এবং আবাসস্থল ছিল এই নগরকে নিয়ে।

ব্যবসায়ীগণ এখান থেকে বিভিন্ন স্থানে তাঁত ব্যবসা পরিচালনা করতেন। বিখ্যাত মসলিন সহ অন্যান্য তাঁত স্তনে তাঁত ব্যবসা প্রসার এর তীর্থ স্থান এই নগর। ধারণা করা হয় প্রায় চার্ শত বছর পূর্বে পানাম নগর স্থাপিত হয়।

এ নগর মূলত ব্যবসায়ী এবং প্রাচীন জমিদারগনেরা বসবাস করতেন। পাশাপাশি বাজার গুলোতে আমির ওমরাদের জন্য পানাম নগরী ও তার আশেপাশের গ্রামগুলোতে গড়ে উঠেছিল নিপুন কারুকাজ খচিত পাকা ইমারত সমূহ।

পঞ্চদশ শতক থেকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পর্যন্ত এক সমৃদ্ধ জনপদ ছিল এটি। এর সরু রাস্তার দুই ধারে গড়ে উঠেছিল বিশাল অট্টালিকা, সরাইখানা, মসজিদ, মন্দির, মঠ, ঠাকুর ঘর, গোসলখানা, কূপ, নাচঘর, দরবার, কক্ষ, গুপ্ত পথ, প্রশস্থ দেয়াল, প্রমোদালয় ইত্যাদি।

পাশ দিয়ে বয়ে গিয়েছে পঙ্খীরাজ্ খাল। পানাম এর মাঝে যে রাস্তা বয়ে গিয়েছে এর উত্তর পাশে আছে ৩১টি ভবন এবং দক্ষিণে মোট ২১টি ভবন। বাংলার প্রাচীনতম শহর এটি। বড় নগর, খাস নগর, পানাম নগর-প্রাচীন সোনারগাঁওয়ে এই ৩ নগরের মাঝে অন্যতম। ১৪০০ শতাব্দীতে ১টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল যেখানে পৃথিবীর সব নামি-দামি শিক্ষকরা পড়াতে আসতেন। দুই ধারে আছে ৫২ টি স্থাপনা।

উত্তরে আছে ৩১ টি ও দক্ষিণে আছে ২১ টি স্থাপনা। পানাম এর দুই পাশে আছে সারিবদ্ধ প্রাচীন দালান। খুব একটা উঁচু নয় এই দালান গুলো। জলাশয়ের উপর শুভ্র কাশফুল দোল খায়।

কিভাবে যাবেন?

কি ভাবছেন? খুৱ যেতে ইচ্ছে করছে অদেখা এই সুন্দর্যকে খুব কাছ থেকে তাই না???

তাহলে আজকেই ঘুরে আসুন প্রাচীন ঐতিহ্যময় অপার সুন্দর্যমন্ডিত এই স্থানটিতে। দেখে মন ও চোখ জুড়িয়ে যাক এবং আপনি পান এক অমৃত তৃপ্তি।

খুব সহজেই যাওয়া যাবে সোনারগাঁও ও পানাম নগর।

গুলিস্তান থেকে মোগড়া পাড়া চৌরাস্তা বাসে সরাসরি যেতে পারেন। ভাড়া মাত্র ৪৫ টাকা করে জন প্রতি নিবে। যেখান থেকে অটো রিক্সা করে সোনারগাঁও জাদুঘর যেতে পারেন মাত্র ৫ মিনিটে। ভাড়া মাত্র ১৫ টাকা করে নিবে। সোনারগাঁও এর লোকজ জাদুঘর দেখা শেষ হলে ঘুরে আসুন তার পাশেই পানাম সিটিতে। জাদুঘর থেকে অটোতে করে গেলে ভাড়া জন প্রতি মাত্র ১০ টাকা করে। তো বুঝতেই পারছেন পানাম সিটি ও জাদুঘর কতটা কাছাকাছি অবস্থান করছে!!!!

ঢাকার আশেপাশে ঘোরার জন্য অসম্ভব কিছু সুন্দর জায়গা সম্পর্কে জানতে ভিজিট করুন:


বি.দ্র: আপনার পছন্দের জায়গাগুলো যেখানে আপনি এখনও ভ্রমন করেন নি তবে সেখানে যেতে চান! এরকম নিজের সব পছন্দের স্থানগুলোর নাম লিখে ও কিভাবে যেতে হবে তার সকল তথ্যসমূহ জানতে হলে আমাদের ফেসবুক গ্রুপে হেল্প পোস্ট করুন। আমরা আপনার পছন্দের স্থানগুলোর সকল তথ্য দিতে সচেষ্ট থাকবো সর্বক্ষণ।

আর হ্যা, অবশ্যই আপনার বিশ্ব ভ্রমন অভিজ্ঞতাটি আমাদের ফেসবুক গ্ৰুপে শেয়ার করতে ভুলবেন না।

Leave a Reply