রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট – সিলেট ভ্রমণ গাইড
রাতারগুল

রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট – সিলেট ভ্রমণ গাইড

বাংলাদেশের অ্যামাজন খ্যাত বন রাতারগুল যেটি সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট উপজেলায় অবস্থিত। ইংরেজিতে যাকে বলে রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট (Ratargul Swamp Forest)। এটিই বাংলাদেশের একমাত্র মিঠা পানির জলাভূমির বন, যেটি পৃথিবীর মাত্র ২২ টি মিঠাপানির জলাভূমি বনের মধ্যে একটি। প্রতিবছর হাজার হাজার দেশী-বিদেশী পর্যটক এখানে ভিজিট করতে আসে। এছাড়াও শীতকালে এখানে যাকে যাকে অতিথি পাখি ঘুরতে আসে যেটি দেখে আপনার মন নিমিষেই জুড়ে যাবে।

রাতারগুল সিলেট জেলা শহর থেকে প্রায় ২৬ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এটি প্রায় ৩০,৩২৬ কিলোমিটার বিস্তৃত এবং ৫০৮ একর জায়গায় রয়েছে বন এবং বাকি জায়গায় ছোট ছোট জলাশয় আবৃত। এই বোনটি সারা বছরই ৫ থেকে ১০ ফুট পানির নিচে থাকে তবে বর্ষাকালে এটি ২০ ফুট থেকে কখনো কখনো ৩০ ফুট পর্যন্ত প্লাবিত হয়ে থাকে।

এখানে আপনি বিভিন্ন প্রজাতির গাছপালা দেখতে পাবেন তার মধ্যে অন্যতম কিছু গাছ হলো হিজল, বরুন, করস, জালিবেত, অর্জুন। আনুমানিক সবমিলিয়ে এখানে প্রায় ২৫ প্রজাতির গাছ রয়েছে।

রাতারগুলের নামকরণ

সিলেটের স্থানীয় ভাষায় পাটিগাছ যা রাতাগাছ নামে পরিচিত সেই রাতাগাছের নাম অনুসারে এই বনের নামকরণ করা হয়েছে রাতারগুল।

ভ্রমণের উপযুক্ত সময়

সাধারণত জুলাই থেকে অক্টোবর অর্থাৎ বর্ষার শুরু থেকে একদম শেষের দিক পর্যন্ত রাতারগুল ভ্রমণের উপযুক্ত সময়। এসময় রাতাগুল ফুটে ওঠে এক অন্যরকম বৈচিত্র্যময় সৌন্দর্য নিয়ে। বছরের অন্য সময় গুলোতে শুকনার সিজন হওয়াতে সেখানে তখন পানি অনেক কমে যায় তাই সে সময় রাতারগুল ভ্রমণ না করাই ভালো।

যেভাবে রাতারগুল যাবেন

রাতারগুল যেতে হলে প্রথমে আপনাকে সিলেট যেতে হবে। ঢাকা থেকে সিলেটগামী যেকোনো বাসে করে আপনি সিলেটে চলে যেতে পারবেন। মূলত ঢাকার ফকিরাপুল, গাবতলী, সায়েদাবাদ, মহাখালী, আব্দুল্লাহপুর বাস স্টেশন থেকে গ্রীনলাইন, সৌদিয়া, এস আলম, শ্যামলী ও এনা পরিবহন এর মাধ্যমে আপনি সিলেট যেতে পারবেন।

এগুলোর ভাড়া সাধারণত এসি জনপ্রতি ৮০০ থেকে ১২০০ এবং নন এসি জনপ্রতি ৪০০ থেকে ৫০০ হয়ে থাকে। বাসগুলো সকাল থেকে রাত পর্যন্ত নির্দিষ্ট সময় পরপর ছেড়ে যায়। ঢাকা থেকে সিলেট যেতে মোট ৬ থেকে ৭ ঘন্টা সময় লাগে।

ট্রেনে ঢাকা থেকে সিলেট

আপনি চাইলে কমলাপুর স্টেশন থেকে অথবা ঢাকা বিমানবন্দর স্টেশন থেকে ট্রেনের মাধ্যমে সিলেট যেতে পারবেন। উপবন, জয়ন্তিকা, পারাবত, অথবা কালনী এক্সপ্রেস এই গুলোর মধ্য থেকে যে কোন একটির মাধ্যমে আপনি ঢাকা থেকে সিলেট যেতে পারেন। শ্রেণীভেদে ভাড়া 250 থেকে ১২০০ টাকা পর্যন্ত নিতে পারে। ট্রেনে করে সিলেট যেতে আনুমানিক ৭ থেকে ৮ ঘন্টা সময় লাগতে পারে।

সিলেট থেকে রাতারগুল যাওয়ার উপায়

আপনি সিলেট থেকে রাতারগুল বিভিন্নভাবে যেতে পারবেন। সিলেটের আম্বরখানা পয়েন্ট থেকে সিএনজি নিয়ে আপনি যেতে পারবেন। এভাবে যেতে হলে প্রথমে আপনাকে যেতে হবে মটরঘাট বা সাহেব বাজারে এতে ভাড়া নিবে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা এবং সময় লাগবে ঘন্টাখানেক। এরপর মটরঘাট থেকে সরাসরি নৌকা নিয়ে চলে যাওয়া যায় রাতারগুলে এতে নৌকা ঘণ্টাপ্রতি ২০০ থেকে ৩০০ টাকা করে নেবে। এইরকম নৌকা ৫ থেকে ৬ জন বসা যায়। আপনি চাইলে এরকম একটি নৌকা পুরো দিনের জন্য ভাড়া করে নিতে পারেন এক্ষেত্রে ভাড়া পড়বে ৮০০-১৫০০ টাকা। রাতারগুল যাওয়ার যতগুলো মাধ্যম আছে তার মধ্যে এই মাধ্যমটি সবচাইতে উত্তম এতে সময় এবং খরচ দুটি কম লাগে।

সিলেট থেকে রাতারগুল যাওয়ার দ্বিতীয় পথটি হল জাফলং গামী বাসে করে সারিঘাটে নামতে হবে। সিলেট থেকে সারিঘাট যেতে ভাড়া নেবে ৪০ থেকে ৫০ টাকা। সারিঘাট থেকে গোয়েনঘট এ যেতে হবে এবং সেখান থেকে নৌকায় করে রাতারগুল খেতে হবে। এখানকার নৌকা গুলোতে ১০ থেকে ১২ জন উঠা যায় এবং এরকম একটি নৌকা যদি আপনি সারাদিনের জন্য ভাড়া করেন তাহলে ভাড়া নেবে ৮০০-১২০০ টাকা তবে এই পথে যাতায়াতে আপনার সময় এবং খরচ দুটি বেশি লাগবে।

তবে আপনি যে পথেই রাতারগুল আসেন না কেন রাতারগুল ঢোকার জন্য আপনাকে জেলেদের ছোট ডিঙ্গি নৌকা নিতে হবে।

কোথায় থাকবেন

সিলেট থেকে মূলত রাতারগুল যেতে সময় কম লাগে বলে সবাই সিলেট জেলা শহরকে রাত্রিযাপনের জন্য বেছে নেয়। এছাড়া লাল বাজার এলাকায় ও দরগা রোডে কম ভাড়ায় মানসম্মত রেস্ট হাউস পাওয়া যায়।

সিলেটের কিছু হোটেল সমূহ

  1. হোটেল রোজ ভিউ – ০৮২১-৭২১৪৩৯
  2. হোটেল স্টার প্যাসিফিক – ০৮২১-৭২৭৯৪৫
  3. ন্যাশনাল – ০৮২১-৭২১১৪৩
  4. হোটেল পলাশ – ০৮২১-৭১৮৩০৯
  5. হোটেল দরগাগেইট – ০৮২১-৭১৭০৬৬
  6. হোটেল উর্মি – ০৮২১-৭১৪৫৬৩
  7. হোটেল মুন লাইট – ০৮২১-৭১৪৮৫০
  8. হোটেল হিলটাউন – ০৮২১-৭১৬০৭৭
  9. গুলশান সেন্টার – ০৮২১-৭১০০১৮
  10. হোটেল ফরচুন গার্ডেন – ০৮২১-৭১৫৫৯০
  11. হোটেল ডালাস – ০৮২১-৭২০৯৪৫
  12. হোটেল গার্ডেন ইন – ০৮২১-৮১৪৫০৭

খাওয়াদাওয়ার ব্যবস্থা

রাতারগুলের আশেপাশে বেশ কিছু রেস্টুরেন্ট রয়েছে আপনি চাইলে সেখানে খাওয়া-দাওয়া সেরে নিতে পারেন তার মধ্যে কিছু রেস্টুরেন্ট হল মিতালি রেস্টুরেন্ট, চিক চিকেন, শেফরন এবং আরো অনেক।

সাবধানতা

যেহেতু বর্ষাকালে রাতারগুল জলাবন ভ্রমণের উপযুক্ত সময় তাই বনের ভেতর চলাচলের সময় কিছু সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। অর্থাৎ বর্ষার সময় নিচে পানি থাকার কারণে সাপ তার আশ্রয় স্থান হিসেবে গাছের ডালে শুকনো স্থানে থাকতে পারে সেই সঙ্গে রয়েছে জোকের উপদ্রব। তাই আপনার চারপাশ একটু খেয়াল করে সামনের দিকে এগোবেন। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ন হচ্ছে সাতার জানা না থাকলে লাইফ জ্যাকেট নিয়ে নেয়া। কেননা জলের গভীরতা কিছু কিছু স্থানে অনেক বেশি। আর তাছাড়া বর্ষাকাল হিসেবে সঙ্গে রেইনকোট, ছাতা ও প্লাষ্টিকের জুতা নিয়ে নিতে ভুলবেন না।

সিলেট জেলার আরো কিছু অসম্ভব সুন্দর জায়গা সম্পর্কে জানতে ভিজিট করুন:

আমাদের এই পোস্টটি যদি আপনার ভ্রমনের ক্ষেত্রে কিছুটা হলেও উপকারে আসে এবং ভালো লেগে থাকে তাহলে পোস্টটি শেয়ার করে আপনার আশেপাশের সবাইকে জানার সুযোগ করে দিন।


বি.দ্র. একটি সুন্দর প্রকৃতি ও পরিবেশ আমাদের দেয় একটি প্রাণবন্ত জীবন। আর এই সুন্দর পরিবেশটিকে সংরক্ষণ করার দায়িত্বটাও একান্ত আমাদের। তাই দয়া করে সেখানে কেউ মাটিতে কিছু ফেলবেন না,গাছপালা ছিঁড়বেন না এবং পরিবেশ নোংরা করবেন না। সর্বোপরি আমাদের এই সুন্দর পরিবেশকে আরও সুন্দর রাখার চেষ্টা করবেন।  

ভ্রমণ সম্পর্কিত নতুন নতুন জায়গার আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে একটিভ থাকুন

আপনার পছন্দের জায়গাগুলো যেখানে আপনি এখনও ভ্রমন করেন নি তবে সেখানে যেতে চান! এরকম নিজের সব পছন্দের স্থানগুলোর নাম লিখে ও কিভাবে যেতে হবে তার সকল তথ্যসমূহ জানতে হলে আমাদের ফেসবুক গ্রুপে হেল্প পোস্ট করুন। আমরা আপনার পছন্দের স্থানগুলোর সকল তথ্য দিতে সচেষ্ট থাকবো সর্বক্ষণ।

আর হ্যা, অবশ্যই আপনার বিশ্ব ভ্রমন অভিজ্ঞতাটি আমাদের ফেসবুক গ্ৰুপে শেয়ার করতে ভুলবেন না।

Leave a Reply