জিন্দা পার্ক, নারায়ণগঞ্জ
জিন্দা পার্ক

জিন্দা পার্ক, নারায়ণগঞ্জ

ঢাকা থেকে মাত্র ৩৭ কিলোমিটার দূরে জিন্দা পার্কে (Zinda Park) অবস্থিত। এটি নারায়ণগঞ্জ জেলার দাউদপুর ইউনিয়নে প্রায় ১৫০ একর জায়গা নিয়ে তৈরি করা হয়েছে। এটি কোন ব্যাবসায়িক প্রতিষ্ঠান দ্বারা তৈরি করা হয়নি এটি তৈরি করা হয়েছে অত্র এলাকার অগ্রপথিক পল্লী সমিতির তত্ত্বাবধানে। এলাকার ৫০০০ হাজার সদস্য নিয়ে ১৯৮০ সালের অগ্রপথিক পল্লী সমিতি এর যাত্রা শুরু করেন।

যা দেখতে পাবেন

জিন্দা পার্কে প্রায় ২৫০ প্রজাতির ১০ হাজারেরও বেশি গাছ রয়েছে এবং আরও রয়েছে পাঁচটি জলধারা। এছাড়া আপনি যেদিকে তাকাবেন শুধু দেখবেন সবুজের সমারোহ। গাছের উপরে রয়েছে টংঘর, পুকুরে রয়েছে সাকো এছাড়াও আরও রয়েছে মাটির ঘর, মার্কেট, একটি অসম্ভব সুন্দরী স্থাপত্যশৈলী লাইব্রেরী, খাবারের জন্য রয়েছে ক্যান্টিন আর মিনি চিড়িয়াখানা। বিশেষ করে এইখানে স্থাপনা নির্মাণশৈলী আপনাকে বিশেষভাবে মুগ্ধ করবে। আপনি চাইলে পানিতে নৌকা নিয়ে ঘুরতে পারবেন এখানে তার ব্যবস্থা করা আছে। তবে নৌকায় উঠার জন্য আপনাকে আলাদাভাবে টিকেট কাটতে হবে।

খাবারের ব্যবস্থা

পার্কের ভিতরে এবং বাইরে দুই জায়গায় খাবারের রেস্টুরেন্ট আছে আপনি চাইলে দুই যায়গা থেকেই খাওয়া-দাওয়া সেরে নিতে পারেন। এখানে আপনি খাবারের মধ্যে পাবেন মাছ, মাংস, ডাল, ভাত ইত্যাদি।

এখানে খাবারগুলো বিভিন্ন প্যাকেজ অনুযায়ী বিক্রি করা হয় এই প্যাকেজগুলো জনপ্রতি ২৫০ থেকে ২৭০ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে আপনি চাইলে সেটিও ক্রয় করতে পারেন। এছাড়াও আপনি চাইলে বাহিরে থেকে খাবার নিয়ে যেতে পারবেন কিন্তু সে ক্ষেত্রে আপনাকে ২৫ টাকা আলাদা বাড়তি ফি দিতে হবে। আপনি যদি পিকনিক করতে চান সে ক্ষেত্রে জিন্দাপার্ক কর্তৃপক্ষই খাবার ব্যবস্থা করে থাকে এজন্য আপনাকে একদিন আগে অর্ডার করতে হবে।  

থাকার ব্যবস্থা

সারাদিন ঘোরাঘুরি করার পর আপনার যদি ইচ্ছে হয় রাত্রে অবকাশযাপনের সেক্ষেত্রে আপনি খুব সহজেই এখানে রাত অবকাশযাপন করতে পারবেন। এখানে রাতে থাকার জন্য মহুয়া নামের একটি গেস্ট হাউস আছে সেখানে আপনি খুব সহজেই রাত্রি যাপন করতে পারবেন।

বুকিং ও প্রবেশ মূল্য

পিকনিক অথবা ডে আউটিং করতে চাইলে নিশ্চিন্তে বেছে নিতে পারেন জিন্দা পার্ক টিকে। এখানে আছে নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা যার ফলে আপনি বিভিন্ন ঝামেলা থেকে মুক্ত থাকতে পারবেন। তবে পিকনিক করার জন্য কর্তৃপক্ষকে দুই-তিনদিন আগে ইনফর্ম করতে হবে।

জিন্দা পার্ক সপ্তাহে ৭ দিনই খোলা থাকে এবং এটি সকাল ৯ টার দিকে খুলে।

এখানে টিকেটের মূল্য জনপ্রতি প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ১০০ টাকা করে এবং ছোট বাচ্চাদের জন্য ৫০ টাকা করে নেওয়া হয়। এছাড়াও লাইব্রেরীতে প্রবেশমূল্য ১০ টাকা করে এবং আপনি চাইলে পুকুরে নৌকা ভ্রমন করতে পারেন এর জন্য ৩০ মিনিটে ২০০ টাকা করে দেওয়া লাগবে।

পার্কিং খরচ: আপনার যদি নিজস্ব গাড়ী থাকে এবং সেটি নিয়ে যদি আপনি যান তাহলে পার্কিং নিয়ে আপনার কোন ঝামেলায় পড়তে হবে না কারণ এখানে আসে তাদের নিজস্ব পার্কিং ব্যবস্থা। এখানে পার্কিং এর জন্য গাড়ি ভেদে ৫০ থেকে ১০০ টাকা নেওয়া হয়।

প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন

মোবাইল : 01716 260908, 01715 025083, 01721 266610
ওয়েবসাইট: zindapark.com

কিভাবে যাবেন জিন্দা পার্ক

জিন্দা পার্কে যাওয়ার জন্য অনেকগুলো রাস্তা আছে তবে সবচাইতে ভালো উপায় হল কুড়িল বিশ্বরোড থেকে পূর্বাচল ৩০০ ফিট হয়ে যাওয়া।

পূর্বাচল 300 ফিট দিয়ে যদি আপনি যেতে চান তাহলে প্রথমে আপনাকে কুড়িল বিশ্বরোড হতে বিআরটিসি কাউন্টার থেকে টিকেট কাটতে হবে কাঞ্চন ব্রিজের ভাড়া নিবে ৪০ টাকা। কাঞ্চন ব্রিজের একটু আগে নেমে হাতের বা দিকে বাইপাস হয়ে সরাসরি আপনি চলে যেতে পারবেন জিন্দা পার্কে। কাঞ্চন ব্রিজ থেকে জিন্দা পার্ক এর দূরত্ব মাত্র ৪ কিলোমিটার। কাঞ্চন ব্রিজের একটু আগে বাইপাসের মরে আপনি জিন্দা পার্কে যাওয়ার জন্য অটোরিকশা পাবেন অটোরিকশা জনপ্রতি ভাড়া ৩০ থেকে ৪০ টাকা নেবে এবং আপনি যদি পুরো অটোরিকশা রিজার্ভ নিতে চান তাহলে ভাড়া নেবে ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা।

এছাড়াও আপনি কাচপুর ব্রিজ হয় জিন্দা পার্কে যেতে পারেন সে ক্ষেত্রে আপনাকে কাচপুর ব্রিজ থেকে ভুলতা গাউছিয়া হয়ে কাঞ্চন ব্রিজ আসতে হবে তারপর কাঞ্চন ব্রিজ থেকে বাইপাস রোড দিয়ে জিন্দা পার্কে যেতে হবে।

জিন্দা পার্কে যাওয়ার জন্য আরও একটি রাস্তা রয়েছে সেটি হল টঙ্গী স্টেশন রোড হয়ে মিরেরবাজার দিয়ে যাওয়া যায়। এক্ষেত্রে আপনাকে প্রথমে টঙ্গী স্টেশন রোড থেকে মিরেরবাজার যাবেন তারপর সেখান থেকে বাইপাস রাস্তা দিয়ে সরাসরি চলে যেতে পারবেন। টঙ্গী থেকে জিন্দা পার্ক এর দূরত্ব মাত্র ২৮ কিলোমিটার।

আরো পার্ক সম্পর্কে জানতে ভিজিট করুন:

আমাদের এই পোস্টটি যদি আপনার ভ্রমনের ক্ষেত্রে কিছুটা হলেও উপকারে আসে এবং ভালো লেগে থাকে তাহলে পোস্টটি শেয়ার করে আপনার আশেপাশের সবাইকে জানার সুযোগ করে দিন।


বি.দ্র. একটি সুন্দর প্রকৃতি ও পরিবেশ আমাদের দেয় একটি প্রাণবন্ত জীবন। আর এই সুন্দর পরিবেশটিকে সংরক্ষণ করার দায়িত্বটাও একান্ত আমাদের। তাই দয়া করে সেখানে কেউ মাটিতে কিছু ফেলবেন না,গাছপালা ছিঁড়বেন না এবং পরিবেশ নোংরা করবেন না। সর্বোপরি আমাদের এই সুন্দর পরিবেশকে আরও সুন্দর রাখার চেষ্টা করবেন।  

ভ্রমণ সম্পর্কিত নতুন নতুন জায়গার আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে একটিভ থাকুন

আপনার পছন্দের জায়গাগুলো যেখানে আপনি এখনও ভ্রমন করেন নি তবে সেখানে যেতে চান! এরকম নিজের সব পছন্দের স্থানগুলোর নাম লিখে ও কিভাবে যেতে হবে তার সকল তথ্যসমূহ জানতে হলে আমাদের ফেসবুক গ্রুপে হেল্প পোস্ট করুন। আমরা আপনার পছন্দের স্থানগুলোর সকল তথ্য দিতে সচেষ্ট থাকবো সর্বক্ষণ।

আর হ্যা, অবশ্যই আপনার বিশ্ব ভ্রমন অভিজ্ঞতাটি আমাদের ফেসবুক গ্ৰুপে শেয়ার করতে ভুলবেন না।

Leave a Reply